দেশজুড়ে

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার দাপট!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব পাইকপাড়া মহল্লায় অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রদীপ চন্দ্র সাহা (৪৫) নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অমরেন্দ্র লাল রায় নামে পুলিশের সাবেক ওই ওসির দায়েরকৃত মামলায় বর্তামানে প্রদীপ কারাভোগ করছেন। বাড়ির জায়গা দখল করতেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রদীপকে জেল খাটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।কারাবন্দি প্রদীপের স্ত্রী দীপ্তি সাহা জাগো নিউজকে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের প্রতিবেশি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অমরেন্দ্র লাল রায়ের সঙ্গে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তাদের একতলা বাড়িটি দোতলাকরণের জন্য ছাদে পিলার নির্মাণ করা হলে অমরেন্দ্র তাদের কাছে জায়গা পান দাবি করে পিলার ভেঙে ফেলার জন্য বলেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় প্রদীপের পরিবার। এ ঘটনার পর অমরেন্দ্র একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে প্রদীপের বিরুদ্ধে গত ১৪ মার্চ সদর মডেল থানায় প্রদীপকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রদীপ চন্দ্র সাহা কয়েকজন সহযোগী নিয়ে বেআইনিভাবে অমরেন্দ্র লাল রায়ের বাসায় ঢুকে তার ছেলে অনুপম রায়কে দা দিয়ে মাথায় কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং ডান পায়ে আঘাত করে হাড় ভেঙে ফেলে। এছাড়া তার কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরে আহত অনুপমকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে প্রদীপের স্ত্রী দীপ্তি সাহা দাবি করে বলেন, মামলায় উল্লেখিত ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। অমরেন্দ্র সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে থানায় মামলা দিয়ে গত ২৪ মার্চ প্রদীপকে গ্রেফতার করিয়েছেন। এছাড়া তার ছেলে অভিজিৎ রায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক হওয়ায় অনুপমকে আহত দেখিয়ে মনগড়া চিকিৎসা সনদ পাইয়ে দেন। তাদের বাড়ির জায়গা দখলে নিতেই প্রদীপকে এমনভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন দীপ্তি।মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার বদী অমরেন্দ্র লাল রায় জানান, আমার সঙ্গে প্রদীপের বিরোধ চলছে ঠিকই। তবে মামলায় উল্লেখিত ঘটনা সঠিক। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিজের ও চিকিৎসক হিসেবে ছেলের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানান তিনি।এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈনুর রহমান জাগোনিউজকে বলেন, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।আজিজুল আলম সঞ্চয়/এমএএস/আরআইপি