দেশজুড়ে

বিজু উপলক্ষে রাঙামাটিতে ৩ দিনব্যাপি বর্ণিল অনুষ্ঠান

‘জুম্ম সংস্কৃতি বিলুপ্তির ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হোন’ স্লোগানকে সামনে রেখে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে বিজু উৎসব উপলক্ষে তিন দিনব্যাপি বর্ণিল অনুষ্ঠানমালা। এ উপলক্ষে রোববার সকাল ১০ টায় পৌরসভা প্রাঙ্গণে আয়োজিত গণসমাবেশে তিনদিনের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। সমাবেশে বলা হয়, জুম্ম জাতির ঐতিহ্য-সংস্কৃতির অস্তিত্ব রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে। তাই চলমান ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রামকে জোরদার করার জন্য জুম্ম জনতার আহ্বান জানান বক্তারা।পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ী জাতিগোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক (বৈসাবি) উদযাপিত হবে ১২-১৪ এপ্রিল। রোববার সকাল ১০টায় রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত উপ-সচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ও শোভাযাত্রা সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, শিক্ষাবিদ প্রফেসর মংসানু চৌধুরী, রাঙামাটি সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিতা চাকমা বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন- উদযাপন কমিটির সমন্বয়কারী বিজয় কেতন চাকমা। সমাবেশ পরিচালনা করেন শরৎ জ্যোতি চাকমা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উদ্বোধনী নৃত্য-সঙ্গীত পরিবেশন করেন পাহাড়ি শিল্পীরা।উদ্বোধনীর পর শহরে বের করা হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ হতে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি স্টেডিয়াম গিয়ে শেষ হয়।  বিকালে রাঙামাটি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছে শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। এছাড়া সোমবার বিকাল ৫ টায় রাঙামাটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সমাপনীর দিন ভোর ৬ টায় শহরের রাজবন বিহার পূর্ব ঘাটে আনুষ্ঠানিক ফুল ভাসনো ও বিকাল ৩ টায় রাঙামাটি স্টেডিয়ামে ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ঘরে ঘরে বিজুর মূল উৎসব পালিত হবে ১২-১৪ এপ্রিল। এছাড়া ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে মারমা সম্প্ররদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলোৎসব।এদিকে, বৈসাবির সঙ্গে একাট্টা আবহমান বাংলার বৈশাখী উৎসব। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে ১০-১৪ এপ্রিল আয়োজন করা হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপি বৈশাখী মেলা। রোববার বিকাল ৩ টায় এ মেলার উদ্বোধন হয়। এছাড়া নববর্ষের প্রথম দিন ১৪ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। ওইদিন সকালে শহরে আনন্দ শোভাযাত্রা, যেমন খুশি তেম সাজো, বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পান্তা উৎসব, বিকালে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বলী খেলা, বিনোদনমূলক ক্রীড়ানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  সুশীল প্রসাদ চাকমা/এসএস/এমএস