নওগাঁর নিয়ামতপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষ ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রেচারণায় মুখরিত উঠেছে ৮ ইউনিয়ন। ২৯ মার্চ বৈধ প্রার্থী ঘোষণার ও প্রতীক বরাদ্দের পরদিন থেকে পোস্টার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে উপজেলার রাস্তা-ঘাট, পাড়া-মহলা ও হাট-বাজার। প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিচ্ছেন উন্নয়নের নানান প্রতিশ্রুতি। তবে ভোটাররা প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিতে না ভুলে যোগ্য ও সৎ প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করবেন বলে জানিয়েছেন।নিয়ামতপুর নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৯ মার্চ বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৮টি ইউনিয়নের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, সাধারণ সদস্য ৩০২ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ১০৪ জনের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৩ এপিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।স্থানীয় এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জান গেছে, দেশের বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অধিকাংশ ইউনিয়নে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে যে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন সেখানে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে একটি অংশ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার কাজ করছে। এসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয়ই বিপাকে আছে। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, জামায়াত, এলডিপি ছাড়াও কোনো দল থেকে নয় এমন স্বতন্ত্র প্রার্থী কয়েকটি ইউনিয়নে অংশগ্রহণ করেছেন। পিছিয়ে নেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে নির্বাচনে অংশ নেয়া এসব ছোট দলের প্রার্থীরাও। তবে নির্বাচনে এসব ছোট দল অংশগ্রহণ করলেও স্থানীয়রা মনে করছেন মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।ভাবিচা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আইয়ুব হোসাইন মন্ডল জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক পদে দীর্ঘ দিন থেকে আওয়ামী লীগ ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। কিন্তু তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র চেয়ে না পাওয়ায় স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। দল থেকে বহিষ্কার করা না করায় কিছু আসে যায় না। আশা রাখেন তিনি জয়ী হবেন।ভাবিচা ইউনিয়নের বিএনপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে ভোট না করার জন্যে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কর্মকর্তাদের জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী খালেকুজ্জামান জানান, আওয়ামী লীগের উন্নয়নের জনসাধারণের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে সবখানে। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছাবলুর আমীন চৌধুরী জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হলে ৮টি ইউনিয়নে তারা জয়ী হবেন। কিন্তু অনেক স্থানে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রাচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। এতে নিরপেক্ষভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হবে না বলে মনে করছেন তিনি। এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হক জানান, উপজেলায় সকল দল নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, মত-বিনিময় ও সভা-সমাবেশ সুন্দরভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র একটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলের বিপক্ষে গিয়ে এক জন ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন। তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ও স্থানীয় সংসদের সহযোগিতায় এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় জনসাধারণের ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে। ৮টি ইউনিয়নে নৌকা জয়ী হবে বলে আশা করেন এই জনপ্রতিনিধি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ জানান, এখন পযর্ন্ত কোনো দলই নির্বাচনী কাজে বাধা দেয়ার কোনো অভিযোগ করেনি। এক কথায় বলা যায় নির্বাচনী কাজ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। আশা করা হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৮ হাজার ৩শ জন এবং মহিলা ৯২ হাজার ১৮৮ জন। ৯০টি কেন্দ্রের ৫৯০টি বুথে আগামী ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বিপিএম, পিপিএম জানান, আবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠিত করতে প্রশাসন সজাগ আছে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো দলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ এলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আব্বাস আলী/এফএ/এমএস