পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন এলাকার নাংলী এলাকায় আবারও আগুন লেগেছে। বুধবার বেলা ১২টার দিকে সেখানকার বনে আগুন লাগার খবর নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের ডিএফও মো. সাইদুল ইসলাম। এর আগে গত ২৮ মার্চ রোববার সন্ধ্যার দিকে চাদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন এলাকার নাংলী ক্যাম্পের শিকদারের চিলা এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এদিকে, তীব্র তাপদাহের মধ্যে সুন্দরবনের নাংলী এলাকার আবদুল্লার ছিলার শেষে পড়াকোড়ালিয়ার আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাটি পানির উৎস না থাকায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর এলাকায় বুধবার দুপুরে আগুন লাগার খরব পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও মো. সাইদুল ইসলাম। তিনি মুঠোফোনে জানান, সুন্দরবনের আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দুপুরে নাংলী এলাকায় পৌঁছেছে। তবে কাছাকাটি কোনো পানির উৎস না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়। তবে বনকর্মীরা স্থানীয় লোকদের সহায়তা নিয়ে ইতোমধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার লাইন কাটার কাজ শুরু করেছে। ১৬ দিনের ব্যবধানে সুন্দরবনের প্রায় একই স্থানে কিভাবে আবার আগুন লাগল এমন প্রশ্নেন কোনো সঠিক কারণ তিনি জানাতে পারেননি। তিনি জানান, কিছু দিন আগে যেখানে আগুন লেগেছিল তার কাছেই আবার আগুন লেগেছে। কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত বলা সম্ভব নয়।দুপুরে ঘটনাস্থলে থাকা ধানসাগর ফরেস্ট কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ জানান, নাংলী এলাকার যে বনে আগুন লেগেছে সেখাতে তেমন কোনো বৃক্ষরাজি নেই। কিছু বলা ও সন জাতীয় গাছ পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার কিছু পরে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর এলাকার নাংলী ক্যাম্পের আব্দুল্লার ছিলা শেষ প্রান্তে পচাকোড়ালিয়া এলাকার সনবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। বনের ওই স্থানে লাগা আগুন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য বনকর্মী, ভিডিআরপি ( টাইগার টিম), কমিউনিটি প্রেট্রোলিং গ্রুপ(সিপিজি) এবং স্থানীয় লোকজন ফায়ার লাইন কেটে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে কি কারণে আগুন লেগেছে তিনিও তা জানাতে পারেননি। এর আগে গত ২৮ মার্চ রোববার সন্ধ্যা সুন্দরবনের নাংলী এলাকার বনে আগুন লেগেছিল। তবে এখন সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম চলমান থাকায় জেলে, বাওয়ালি বা মৌয়ালদের ফেলে দেয়া আগুন থেকে লাগতে পারে বলে এলাকার একাধিক ব্যক্তি ধারণা করছে।শওকত আলী বাবু/এসএস/এমএস