দেশজুড়ে

শরীয়তপুরে আ.লীগ প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ওমর ফারুক মোল্লার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর সিকদার। অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ওমর ফারুক মোল্লাসহ তার কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর সিকদারকে জনসংযোগে বাধা প্রদান করছেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয় ভীতি দেখাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, প্রচার কার্যে ব্যাবহৃত মাইক ভাঙাসহ পোস্টার, ব্যানার ছিড়ে ফেলছেন। তিনি এবং তার কর্মীরা কোনো প্রচারকার্য চালাতে পারছেন না। বাড়িতে বসেই নির্বাচন কার্য পরিচালনা করছেন।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চন্দ্রপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর কোনো পোস্টার লাগানো নেই। কিছু কিছু জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার লাগানো থাকলেও তা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ওমর ফারুকের কর্মীরা ছিড়ে ফেলেছেন। স্থানীয় কয়েকজন সাধারণ ভোটারের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, রাজনৈতিকভাবে ওমর ফারুকের কোনো অবস্থান নেই। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপি প্রার্থীদেরকে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভোটার বলেন, আমি নৌকার ভোটার। কিন্তু দলীয়ভাবে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে প্রকৃত অর্থে তিনি ভালো মানুষ ছিলেন না। তার বাবা মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রভাবশালী রাজাকার ছিলেন। ওমর ফারুকও একটা সময় জামাতের কর্মী ছিলেন। বর্তমানে সে আওয়ামী লীগের নব্য কর্মী হয়েছেন এবং এম.পির সঙ্গে তার ভালো সখ্যতা রয়েছে। তারই বদৌলতে অনেক টাকার বিনিময়ে ওমর ফারুক মোল্লা নৌকার মনোনয়ন এনেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এলাকায়  তার কোনো ব্যাক্তিগত ভোট নেই। ভোটে ফেল করবে বলেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকদেরকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। আরেকজন ভোটার বলেন, চেয়ারম্যান না হতেই ওমর ফারুক মোল্লার জুলুম অত্যাচার বেড়ে গেছে। চেয়ারম্যান হলে কি যে হয়, তা বলা যাচ্ছে না। অন্যান্য প্রার্থীদেরকে ওমর ফারুক তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রচারকার্যে বাধা দিচ্ছেন। এটাকে কি নির্বাচন বলে? এরকজন প্রার্থী যদি জনগনের কাছে ভোট চাইতে যেতে না পারে তাহলে ভোটের কি দরকার? মোট কথা ওমর ফারুক কোনো প্রার্থীদেরকেই মাঠে নামতে দিচ্ছেনা।এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর সিকদার এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি এবার নির্বাচনের জন্য দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। মনোনয়ন দিয়েছে রাজাকার ইমান উদ্দিন মোল্লার ছেলে ওমর ফারুক মোল্লাকে। একটা সময়ে সে জামাত করতো, বর্তমানে এমপি সাহেবের খাস লোক। তার অত্যাচারে আমরা প্রচারকার্য চালাতে পারছিনা। সে আমার কর্মীদেরকে মাঠে নামতে দিচ্ছেনা। আমি এ ব্যাপারে রির্টানিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু রির্টানিং অফিসার এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।পরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ওমর ফারুক মোল্লার সঙ্গে আলাপ করতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নেতার কথাই পত্রিকায় আসে না, আপনাদের সঙ্গে কী কথা বলবো?এ বিষয়ে জেলা রির্টানিং অফিসার শেখ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমার কাছে চন্দ্রপুর ইউনিয়ন থেকে ওমর ফারুক মোল্লার বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এসেছে। আমি খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।ছগির হোসেন/এফএ/এমএস