ভোলায় উৎপাদিত তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও সময় মতো দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও চাষীরা। তীব্র গরমে ইলিশা ফেরিঘাট এলাকায় পচনের মুখে পড়েছে কোটি টাকার তরমুজ। মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে ইলিশা ফেরিঘাটে ধস দেখা দেয়ায় ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একদিন বন্ধ থাকার পর শেষ পর্যন্ত তরমুজের ট্রাক পার করতে বিকল্প পথে ভেদুরিয়া ঘাট থেকে মঙ্গলবার বিকেল থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। বিকল্প পথ ব্যবহার করলেও ২ ঘণ্টার পথে বর্তমানে সময় লাগছে ৬/৭ ঘণ্টা। এতে ফেরি দুই ট্রিপে মাত্র ২৫টি তরমুজ বোঝাই ট্রাক পার করতে পারছে। একই সঙ্গে ফেরি পার করতে দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হচ্ছে কৃষক ও তরমুজ ব্যবসায়ীদের। চাষী আলাউদ্দিন, শাজাহান, মনোরঞ্জন জানান, এক ট্রাকে ৩শ` তরমুজ ধরে। সময় মতো মোকামে নিয়ে বিক্রি করতে পারলে প্রতিটি তরমুজের ১শ` টাকা দাম পাওয়া যেতো। তারা আরও জানান, ঘাটে ফেরি পার হওয়ার জন্য ১২০টি ট্রাক অপেক্ষা করছে। দৈনিক পার হতে পারে ২৫ থেকে ৩০টি ট্রাক। ফলে ১২০টি পার হতে সময় নেবে ৩ থেকে ৪ দিন। পাশপাশি প্রতিদিনই ঘাটে ভিড় জমাচ্ছে নতুন নতুন তরমুজের ট্রাক। তীব্র গরমে আটকা পড়া ট্রাক বোঝাই তরমুজ থেকে পানি ও রস গড়িয়ে পড়ছে। শেষ পর্যন্ত মোকামে নিয়ে এসব তরমুজ ২০ টাকা দরও পাওয়া যাবে না বলে জানান ওসমানগঞ্জের চাষী মনোরঞ্জন। ফেরির ম্যানেজার আবু আলম জানান, বিকল্প পথ চালু হওয়ায় কিছু তরমুজের ট্রাক পার করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি জানান, এ মৌসুমে ৫টি ফেরির প্রয়োজন পড়ে। অপরদিকে, ইলিশা ফেরিঘাট সংস্কারের জন্য গতকাল পর্যন্ত কাজ শুরু করেন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।এ ব্যাপারে ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি সার্ভিসের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আলম হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিকল্প পথ হিসেবে ইলিশা ঘাট থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরত্বে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ঘাট থেকে ভোলা-লক্ষ্মীপর রুটে ফেরি চলাচল করছে। ফেরি কনকচাঁপা ও কিষাণী বর্তমানে বিকল্প পথে চলছে। এতে যানজট কমানো যাচ্ছে না। অমিতাভ অপু/এসএস/আরআইপি