দেশজুড়ে

খালের জমি দখল করে দোকান নির্মাণ : সেচ কাজ বন্ধ

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগের পাড়া ইউনিয়নের নাগের পাড়া বাজারে দুই প্রভাবশালী ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে  খালের জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে কৃষকরা সেচকাজ চালাতে পারছেননা বলেও জানা গেছে।  সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ঢালীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আক্তার মাদবর (৪৫) এবং পশু চিকিৎসক জসিম মৃধা (৪২) ২১নং নাগের পাড়া মৌজার ১নং খাস খতিয়ানে খালের ভিপি সম্পত্তি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করেছেন। এতে নাগের পাড়ার কৃষি জমিগুলোতে সেচকাজ চালাতে পারছেননা কৃষকরা। ফলে আশানুরূপ ফসল উৎপাদন হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা। নাগের পাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আক্তার মাদবর এবং জসিম মৃধা এলাকায় অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা জোর করে নাগের পাড়া বাজারের বাসস্ট্যান্ড এর কাছে সরকারি জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করেছেন। এর আগেও তারা নাগের পাড়া বাজারের জামে মসজিদের পাশের সরকারি জমিটি দখল করে পল্ট্রিফার্ম করেন। কেই কিছু বলতে আসলে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের ভয় ভীতি দেখানো হয়। তাদের জমি দখল করাকে কেন্দ্র করে আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে।এ ব্যাপারে ঢালীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ভূমিদস্যু আক্তার মাদবর বলেন, এ সম্পত্তি আমি আমার শ্বশুরের কাছ থেকে কিনেছি। সম্পত্তির কাগজপত্র আমার কাছে আছে। তাই আমি এ দোকান তুলছি। এদিকে ভূমিদস্যু জসিম মৃধা জানান, এ সম্পত্তিটি সরকারি নয়, এটা তার বাবার সম্পত্তি। তিনি তার বোন জামাই এর কাছে জমিটি বিক্রি করেছেন এবং সেই সুবাদে আক্তার মাদবর উক্ত জমিতে দোকান ঘর তুলেছেন।এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাজাহান সিকদার জানান, নাগের পাড়া বাজারে কোনো জমির মালিকানা নেই। পুরো বাজারটাই সরকারি সম্পত্তির উপরে হয়েছে।  নাগের পাড়া বাজার কমিটির সভাপতি আলী আজগর হাওলাদার বলেন,  আক্তার মাদবর এবং জসিম মৃধা বাসস্ট্যান্ডের কাছে সরকারি জমিটি দখল করেছেন। আমরা বাজার কমিটির পক্ষ হয়ে বাধা দিয়েছিলাম কিন্তু তারা আমাদের বাধা মানেননি। পরে তহশিলদারকে ব্যাপারটি অবগত করেছি। তহশিলদারকেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখিনি।তবে নাগের পাড়া ইউনিয়নের তহশিলদার উদ্ভব চন্দ্র পাল এবিষয়ে বলেন, আক্তার মাদবর এবং জসিম মৃধার বিরুদ্ধে বাসস্ট্যান্ডের কাছে সরকারি জমিতে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত স্থানে গিয়েছি এবং তাদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, সরকারি জমিতে কেনো অনুমতি ছাড়া প্রতিষ্ঠান তোলা হচ্ছে তার কারণদর্শানোর জন্য নোটিশও দিয়েছি। নোটিশের কপি ইতোমধ্যে ভূমি কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।  ছগির হোসেন/এফএ/এবিএস