দেশজুড়ে

সুন্দরবনে আবারও আগুন

পূর্ব সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন এলাকার নাংলী এলাকায় আবারও আগুন লেগেছে। এর আগে গত ১৩ এপ্রিল বুধবার সকালে ওই একই এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জের নাংলী এলাকায় গত ২০ দিনে এই নিয়ে প্রায় একই স্থানে তিনবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো। দুপুর ১২টার দিকে আগুন লাগার খবর নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও মো. সাইদুল ইসলাম। এ ঘটনাকে তিনি নাশকতা বলে চিহ্নিত করেছেন। এর আগে ১৩ এপ্রিল সকালে এবং তার আগে গত ২৮ মার্চ রোববার সন্ধ্যার দিকে চাদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন এলাকার নাংলী ক্যাম্পের শিকদারের চিলা এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও মো. সাইদুল ইসলাম জানান, কে বা কারা নাশকতার জন্য নাংলী এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনার পর মোড়েলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে শুরু করে। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আশা করছি অল্প কিছু সময়ের মধ্যে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হবে। মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে শরণখোলা উপজেলাধীন নাংলী এলাকায় বনে আগুন লাগার ঘটনা পরিকল্পিত বলে দাবি করে তিনি জানান, এর আগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে যে সকল চিহিৃত ব্যক্তিদের নামে মামলা করা হয়েছে তাদের এই চক্র বন বিভাগকে হেয়প্রতিপন্ন করতে নাশকতার উদ্দেশ্যে আগুন ধবিয়ে দিযেছে। এ বিষয়ে শরণখোলা থানায় নাশকতার মামলা করা হবে বলে তিনি জানান। এদিকে, ঘটনাস্থলে কোস্টগার্ডের একটি দলও সুন্দরবনের ওই স্থানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করেছেন বলে জানান এই বন কর্মকতা ।দুপুরে ঘটনাস্থলে থাকা ধানসাগর ফরেস্ট কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ জানান, নাংলী এলাকার যে বনে দুবৃত্তরা আগুন দিয়েছে সেখাতে তেমন কোনো বৃক্ষরাজি নেই। বন বিভাগের লোকজন সর্তক থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। মোড়েলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস কোস্ট গার্ডের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ করছে। খুব অল্প স্থানে লাগা আগুন তাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবি করেন তিনি। অসৎ উদ্দেশ্যে বেলা ১১টার দিকে সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের আবদুল্লার ছিলা এলাকার ছলে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে দেয় বলে তিনি জানান। সুন্দরবনে আবারও আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তা নেভানোর জন্য বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও মোড়েলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকে বলা হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই মোড়েলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন বিভাগের কর্মীদের সহযোগিতায় আগুন নেভাতে শুরু করে। এর আগে গত ২৮ মার্চ সুন্দরবনে নাংলী এলাকার বনে আগুন লাগার ঘটনার পর গঠিত তিনি সদস্যের তদন্ত কমিটি গত ৪ এপ্রিল তাদের তদন্ত প্রতিবেদন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলামের কাছে জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে বনজীবী ও স্থানীয়দের অসতর্কতাকে অগ্নিকাণ্ডে জন্য দায়ী করা হয়। এ ঘটনার ১৬ দিন পর ১৩ এপ্রিল আবার আগুন ধরে নাংলী ফরেস্ট ক্যাম্পের কাছে আব্দুল্লাহর ছিলার শেষ প্রান্তে পচাকোড়ালিয়া ও নাপিতখালী এলাকায়। এ সময়ে লাগা আগুনে পুড়ে যায় বলের ৮ দশমিক ৫৫ একর বনভূমি। ইচ্ছাকৃতভাবে বনে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ছয়জন চিহ্নিত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তবে ওই ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়নি। সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশনে প্রতি বছর আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে বন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর ও ধানসাগর এলাকার কয়েকটি অসাধু মৎস্য শিকারি চক্র প্রতি বছর ওই স্থান থেকে মাছ শিকারের জন্য সুন্দরবনে আগুন লাগিয়ে থাকে। শুষ্ক মৌসুমের এই সময়ে তারা আগুন লাগিয়ে বন পরিষ্কার করে মাছের বিল তৈরির জন্য। বর্ষা এলেই শুরু হয় ওই চক্রের মাছ ধরার উৎসব। প্রশাবশালী চক্রের মাধ্যমে বন কর্মকর্তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই চক্রের কাছে মৌসুমভিত্তিক অলিখিত ইজারা (লিজ) দেয় ওই বিলগুলো। পরে ওই বিলে কারেন্ট জাল পেতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করা হয়। প্রতি মৌসুমে লাখ লাখ টাকা আয় হলেও সরকারের ঘরে একটি টাকাও রাজস্ব জমা পড়ে না। পকেট ভারি হয় কিছু লোকের।  সেখানকার খোঁজ খবর জানেন এমন একাধিক ব্যক্তি নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, দু` একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া অনেক সময় এক শ্রেণির অসাধু বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে শাসক দলের প্রভাবশালীরা সুন্দরবনের খাল-বিল কথিত ইজারার মাধ্যমে মাছ চাষ করতে সহজ রাস্তা তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে বনে আগুন ধরিয়ে দেয়।শওকত আলী বাবু/এসএস/এমএস