`বাঘ আমাদের গর্ব, বাঘ সুরক্ষা করবো` এই স্লোগানকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বাঘ সংরক্ষণ সুন্দরবন ও জীব ও বৈচিত্র রক্ষায় তথ্যমূলক এক পথ নাটক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল, দুপুরে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গনে সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে এ তথ্যমূলক পথ নাটকটি অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে সনদপত্র বিতরণ করেন পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।ক্যারাভ্যানটি সারা দেশ ঘুরে ঘুরে মানুষের মধ্যে বাঘ বাঁচানোর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। ক্যারাভ্যান প্রদর্শনীর সঙ্গে একটি পথ নাটক প্রদর্শনী হচ্ছে। যার মাধ্যমেও বাঘ বাঁচানোর জন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও বিভিন্ন স্থানে এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত থেকে তাদের সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। টাইগার ক্যারাভ্যান একটি বাঘ আকৃতির বাস যার ভিতরে সুন্দরবনের গাছ, বাঘ, হরিণ, বানর, কুমির, পাখি ইত্যাদির মাধ্যমে সুন্দরবনের একটি প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এ সম্পর্কে বাঘ সংরক্ষণ অ্যাডভান্স টিম লিডার নিরব কাইয়ুম জানান, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, ইউএসএইড ও ওয়াইল্ড টিম বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ আমাদের জাতীয় প্রাণি বাঘ সংরক্ষণ কল্পে একটি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এদিকে, বন মন্ত্রণালয় ও ইউএসএইড যৌথভাবে বাঘ রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার শুরু করেছে। একটি বাসকে টাইগার ক্যারাভ্যানে রূপ দিয়ে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে- `বাঘ আমাদের গর্ব, বাঘ সুরক্ষা করবো স্লোগান। কিভাবে বাঘের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে ছবি ও অভিনয়ের মাধ্যমে তা তুলে ধরছেন প্রচার দলের সদস্যরা। নাটকের মাধ্যমে বাঘ রক্ষায় করণীয় সম্পর্কেও উদ্বুব্ধ করা হচ্ছে। বাঘ বাঁচলে বাঁচবে বন, রক্ষা পাবে সুন্দরবন স্লোগানকে ধারণ করে নাটকের কথোপকথনে জানানো হয়, মানুষ বাঘের প্রধান শিকার হরিণ মেরে ফেলছে। এতে বাঘের খাবার কমে যাচ্ছে। শিকারের সন্ধানে ক্ষুধার্ত বাঘ নদী পেরিয়ে চলে আসছে লোকালয়ে। সেখানে মারা যাচ্ছে বাঘ মানুষের হাতে। ২০১০ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ৩৬০ থেকে ৪০০টি। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০৬টিতে। নানা কারণে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। বাঘের বিলুপ্তি রোধে উদ্যোগী হয়েছে বন বিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠন।আল-মামুন সাগর/এআরএ/পিআর