দফায় দফায় সংঘর্ষ, গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালট বাক্স ও সিল ছিনতাই, বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া এবং ক্ষমতাসীনদের কেন্দ্র দখলের মধ্যদিয়ে তিন উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এসব ইউনিয়নে পৃথক সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।চূড়ান্তভাবে দুই উপজেলার পাঁচটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। দুপুর ১২টার আগেই অধিকাংশ বিএনপি সমর্থক চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট কেন্দ্র ছেড়ে যান। এদের মধ্যে কেউ কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণাও দেন। বিকেলে জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের মারধর করে ব্যালট বাক্স, সিল ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের কারণে সদর উপজেলায় চারটি এবং বুড়িচং উপজেলার একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর (উত্তর) ইউনিয়নের বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মতিনগর সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও সিল ছিনতাই। জগন্নাথপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর বেগম জহিরুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও রুগুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে মারধর করে ব্যালট পেপার ও সিল ছিনতাইয়ের কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এছাড়াও বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের আবিদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে দফায় দফয় সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনায় নির্বাচনের পরিবেশ না থাকায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। বুড়িচং উপজেলার জগতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একজন প্রার্থীর পক্ষে সিল মারার অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক রফিজুল আলম, শাহ আলম নামের দুই সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। তারা দুইজনই একই উপজেলার শ্রীমন্তপুর এমএ সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বিকেল পৌনে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের বিষয়ে আইনগত কি পদক্ষেপ নেয়া হবে তা চূড়ান্ত করা হয়নি বলেও জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।এদিকে, কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বুড়িচংয়ের রাজাপুর ইউনিয়নের লাল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, মোকাম ইউনিয়নের আবিদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র, মোকাম ইউনিয়নের হাজী চেরাগ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও বারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সদর উপজেলার দক্ষিণ দুর্গাপুর ইউনিয়নের খেতাসার কেন্দ্রে, কালিবাজার ইউনিয়নের আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ঝাকুনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাজগড্ডা মেমোরিয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়,লাকসাম উপজেলার আসগরা ইউনিয়নের ঘাটার নয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে পৃথক সংঘর্ষ, গুলি ,ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীনদের কেন্দ্র দখল এবং জাল ভোটের উৎসবের মুখে বেলা ১২টার মধ্যেই ১৮ ইউনিয়নের মধ্যে অনেক বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করে কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। এর মধ্যে কেউ কেউ সাংবাদিক সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। আদর্শ সদর উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলী হোসেন। বেলা ১১টার দিকে ওই ইউনিয়নের আনন্দপুরস্থ তার নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি ভোট বর্জনের এ ঘোষণা দেন।ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী আবুল কাসেম এবং বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আক্তার আলী। কামাল উদ্দিন/এআরএ/আরআইপি