দেশজুড়ে

মৌমাছির সঙ্গে একঘরে বসবাস!

ওরা আমার ঘরের সন্তানের মতই। স্নেহ-আদর পেয়ে দিন দিন সন্তানের মতই বড় হচ্ছে। এখন ওরা আমাদের পরিবারের সদস্য ও ঘরের লক্ষ্মী। একদিন হঠাৎ সন্ধ্যায় এক ঝাঁক মৌমাছি ভোঁ ভোঁ শব্দে প্রবেশ করে ঘরের ভিতরে খাটের পাশে চাকবাঁধে। তিনমাস ধরে একই ঘরে এক সঙ্গে আছি। ঘরে সব সময় চলাচল করছি কাউকে কামড় দেয়নি। এভাবে কথাগুলো বললেন ওই বাড়ির গৃহিণী সান্তনা রানী। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম ফকিরপাড়া গ্রামের উকিল চন্দ্ররের পরিবার তিন সন্তান নিয়ে মৌমাছির সঙ্গে একই ঘরে প্রায় তিনমাস ধরে বসবাস করে আসছেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। আর এ মৌমাছির চাক দেখার জন্য মানুষ প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে সেখানে ছুটে আসছেন। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি মানুষ উকিল চন্দ্ররের বাড়িতে ভিড় জমান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরের মাঝে খাটের সঙ্গে কাপড়ের পর্দায় মৌমাছি চাক বেঁধেছে। মৌমাছিগুলো একে একে মধু সংগ্রহ করে ভোঁ ভোঁ শব্দে ঘরে প্রবেশ করছে। আর উকিল চন্দ্ররের দুই ছেলে শুভ ও সাগর ঘরে মৌমাছির চাকের পাশে বসে খেলা করছে। জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে ওই ঘরে এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন দিনমজুর উকিল চন্দ্ররের স্ত্রী সান্তনা রানী। ছেলে সন্তানের জন্মের পর থেকেই মৌমাছি তাদের ঘরে বাসা বাঁধে। এরপর থেকেই ওই পরিবারটি মৌমাছিগুলোকে সন্তানের মতই আগলে রাখেন। আর মৌমাছি বাসা বাঁধায় ওই পরিবার আর্শীবাদ বলে মনে করছেন।উকিল চন্দ্ররের দুই ছেলে শুভ ও সাগর জাগো নিউজকে জানায়, মৌমাছির ভোঁ ভোঁ শব্দ অনেক ভালো লাগে। আমাদের কামড় দেয় না। ফকিরপাড়া গ্রামের বসিরুজ্জামান জানান, মৌমাছির কথা শুনে আমি তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। মৌমাছি যেভাবে বাসা বেঁধেছে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।দিনমজুর উকিল চন্দ্রর জাগো নিউজকে জানান, মৌমাছির সঙ্গে তিনমাস ধরে বসবাস করছি কোনো সমস্যা হচ্ছে না। শুধু রাতে ওই ঘরে আলো জ্বালাতে পারি না। আলো দেখলে সব মৌমাছি আলোর কাছে চলে আসে। এআরএ/এফএ/আরআইপি