দেশজুড়ে

লোকবল সংকটে চরভদ্রাসন প্রাণিসম্পদ অফিস

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় চিকিৎসার অভাবে প্রায়ই মারা যাচ্ছে গৃহপালিত পশু। গরু, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগির রোগ নির্ণয় এবং রোগের প্রতিকারের সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা জুটছে না এই উপজেলাবাসীর।উপজেলার প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রেটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও একমাত্র লোকবল সংকট নিয়ে বছরের পর বছর খুঁড়িয়ে চলছে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। কৃষক ও খামারিরা পশু অফিসে এসে সঠিক সময়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা করাতে পারছে না। আবার বাড়ি বাড়ি গিয়েও গবাদিপশুর যন্ত্র, পদ্ধতিসহ বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও তার প্রতিকারের পরামর্শ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে প্রায়ই গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। একমাত্র পর্যাপ্ত লোকবল না থাকার কারণেই অসময়ে এবং অকারণে গবাদিপশুর মৃত্যুর ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক ও খামারিরা।   জানা গেছে, উপজেলার প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রে অফিসারসহ এগারো জন কর্মরত থাকার কথা। এদের মধ্যে একজন করে ইউএলও, ভিএসএ, ইউএলএ, কম্পাউন্ডার, এফএএআই, পিওন, ড্রেসার ও অফিস সহকারিসহ তিনজন ভিএফএ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে মাত্র চারজন লোক দিয়ে চলছে পশু চিকিৎসা কেন্দ্রটি। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ একজন ইউএলও, ভিএফএ একজন, ড্রেসার একজন ও একজন অফিস সহকারী দিয়ে চলছে চারটি ইউনিয়নের পশু চিকিৎসা ব্যবস্থা। এদের মধ্যে থেকে দুইজন কর্মচারী চাকরির মেয়াদ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে জানা যায়। চরভদ্রাসন উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অনেক বড় একটি অংশ চর এলাকা। গবাদিপশু লালন-পালনে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাবারের জোগান রয়েছে চরাঞ্চলে। সে কারণে লোকজন ব্যাপক হারে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ভেড়া পালন করে থাকে। উপজেলা প্রাণিসম্পদের ২০১৫ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, উপজেলায় গাভীর সংখ্যা ৭,৯৯২টি, বকনা ৫,০৩৩টি, ষাঁড়/বলদ ৭,৫৬৫ টি, এড়ে/বকনা ৩,৫৮৪টি, ছাগল ১৩,৬১৬ ও ২,৫০৫টি ভেড়া রয়েছে। যার অনেক বড় একটি অংশ লালন-পালন করে উপজেলার চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ। চরহাজীগঞ্জ এলাকার কৃষক হাসেম সেক জানান, গরু ছাগলের রোগ ব্যাধি হলে সরকারি পশু চিকিৎসক পেতে দুই-তিনদিন সময় লেগে যায়। তাই তাদের একমাত্র ভরসা ফকির ও পল্লী চিকিৎসক। চরভদ্রাসনের চরহরিরামপুর গ্রামের কৃষক মানিক মোল্লা জানান, গবাদিপশুর কোনো ধরনের রোগ বালাই হলেই স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হই। তাতে আমাদের চিকিৎসা খরচও বেশি লাগে। পল্লী চিকিৎসকেরা গুরুতর রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে তেমন একটা বেশি না জানায় অনেক পশুই মারা যায় বলেও তিনি জানান। সরকারি সুযোগ-সুবিধা একেবারে পায় না বলে অভিযোগ করেন এ অঞ্চলের মানুষ।এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছমিরন প্রিয় সাহা বলেন, লোকবল না থাকায় একদিকে পশু চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে এই অঞ্চলের কৃষক ও খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, লোকবল সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার লিখিতভাবে জানিয়েও আজ অবধি কোনো সমাধান হয়নি। পর্যাপ্ত লোকবলের ব্যবস্থা হলে আমরা এলাকাবাসীর যথাযথ সেবা দিতে পারবো বলেও জানান তিনি।এস.এম. তরুন/এআরএ/এমএস