চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া সীমান্তে বাংলাদেশি আম ব্যবসায়ী শিহাব উদ্দিন সজলকে (২০) গুলি করে হত্যার ঘটনার সঠিক তদন্তের স্বার্থে বিএসএফ’র গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।বুধবার বিএসএফ`র এ টিম ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ এবং বিজিবির পক্ষ থেকে উপস্থাপিত সাক্ষীদের জবানবন্দী গ্রহণ করেন। পরে ঘটনাস্থলে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কর্মান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে দোষি বিএসএস সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়। চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আমির মজিদ জানান, গত ১৪ মে গোয়ালপাড়া সীমান্তের ৬৬নং মেইন পিলারের কাছে অবস্থিত আমবাগানে আম পাড়তে গেলে শিহাব ও তার ৩ সঙ্গীকে শারীরিক নির্যাতনসহ শিহাবকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। পরের দিন সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিজিবি এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তদন্ত ও বিচার দাবি করে। দাবির প্রেক্ষিতে বিএসএফ ঐ দিন সন্ধ্যায় বিজিবির বানপুর ক্যাম্পের এসি অনুভব আত্রাইসহ ৭ বিএসএফ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিজিবিকে অবগত করে। বিজিবির দাবির প্রেক্ষিতে এ হত্যার তদন্তে বিএসএফ উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম গঠন করে। বুধবার ঐ তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে ব্যাটালিয়ন কর্মান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিজিবি’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আমির মজিদ এবং বিএসএফ উচ্চ পর্যায় তদন্ত দলের অধিনায়ক কমান্ড্যান্ট রাতনেশ কুমার। এছাড়াও উক্ত বৈঠকে খালিশপুর ৫৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম এবং বিএসএফের স্টাফ অফিসার জাজবীর সিং সহযোগিতা করেন। উল্লেখ্য, ১৪ মে শনিবার জীবননগরের গোয়ালপাড়া গ্রামের মাহবুব হালসানার ছেলে শিহাব উদ্দিন সজলকে (২০) নতুনপাড়া সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহীনি বিএসএফ’র ১১৩ ব্যাটালিয়নের বানপুর কোম্পানি কমান্ডার এসি অনুভব আত্রায়ের নেতৃত্বে টহলে আসা বিএসএফ সদস্যরা গুলি করে হত্যা করে। সজল এ সময় ৩ সঙ্গীসহ বাগানের আম পাড়ছিলেন। সালাউদ্দীন কাজল/এফএ/পিআর