ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. কৃষি ও প্রকৃতি

ভবন ও গাছে মৌমাছির শতাধিক বাসা

জেলা প্রতিনিধি | দিনাজপুর | প্রকাশিত: ০৬:০৭ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২০

দিনাজপুর সদর ও বিরল উপজেলার দুটি ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গাছে মৌমাছির শতাধিক বাসা দেখা গেছে। সদরের ৬ নং আউলিয়াপুর ও বিরল উপজেলার ১১ নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের এসব মৌচাক দেখতে মানুষ ভিড় জমাচ্ছে।

জানা যায়, অনুকূল পরিবেশ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘মধুপল্লি’ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এ দুটি ইউনিয়ন। আউলিয়াপুর ও পলাশবাড়ী ইউনিয়নে বছরজুড়ে রবিশস্য চাষ হয়ে থাকে। তাই সব সময় কোনো না কোনো ফুল ফুটে থাকে মাঠজুড়ে।

এ ছাড়া লিচুর জন্য বিখ্যাত আউলিয়াপুর ইউনিয়ন। এমনকি দেশের বেশি লিচু উৎপাদনকারী উপজেলার নাম বিরল। ফলে সুন্দরবনসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মৌমাছি এসে এখানে বাসা বেঁধেছে।

bee-cover

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মামুদপুর দিঘীপাড়া মসজিদের সামনে একটি বটগাছে ৯টি, ঘুঘুডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি পিটালি গাছে ১৩টি, মাসিমপুর কেবিএম কলেজের বিভিন্ন ভবনে ও গাছে ২৭টি, সিকদারহাট শাহজালাল শাহ্ কামাল মাজারের বটগাছে ৬টি বাসা দেখতে পাওয়া যায়।

অপর দিকে, পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সারাঙ্গাই দত্ত পাড়া গ্রামে আসাদুজ্জামানের পুকুর পাড়ে একটি বটগাছে ১৯টিসহ বিভিন্ন গ্রামের ৮টি গাছে মৌমাছির চাক দেখা গেছে।

এমআর ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সেলস ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিবছর এ মৌসুমে প্রচুর মৌমাছি আসে। এসে বাসা বাঁধে। আবার তারা চলে যায়।

মৌমাছি ও পরিবেশ বিষয়ক গবেষক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘মৌমাছিগুলো অ্যাপিস সেরোনা ইন্ডিকা প্রজাতির। এরা সুন্দরবনে চাক বেঁধে মধু উৎপাদন করে। বসন্তের শুরু থেকে মৌমাছিগুলো দিনাজপুরের পলি অঞ্চলগুলোতে আসতে শুরু করে।’

bee-1

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব এলাকায় আম, লিচুসহ রবিশস্য হয়ে থাকে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে, উদ্যোক্তা তৈরি করা গেলে এ অঞ্চলগুলোতে মধুপল্লি গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এতে ৫০-৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে ৩-৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।’

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন দিনাজপুরের কারিগরি সহকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মৌমাছি যে এলাকায় ফুল পায়; সে এলাকায় দলবেঁধে মধু সংগ্রহ করে। তারা নিরাপদ গাছ ও ভবন দেখে বাসা বাঁধে।’

তিনি বলেন, ‘এ এলাকায় যেহেতু সব সময় ফুল পাওয়া যায়; সেহেতু বেকার প্রশিক্ষিত যুবকরা সারা বছর মধু চাষ করে সাবলম্বী হতে পারে। এ অঞ্চলে গড়ে উঠতে পারে মধুপল্লি।’

এমদাদুল হক মিলন/এসইউ/পিআর

আরও পড়ুন