ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. কৃষি ও প্রকৃতি

আমের বদলে বরই চাষে বদলে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতি

জেলা প্রতিনিধি | চাঁপাইনবাবগঞ্জ | প্রকাশিত: ১২:১২ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

আমের রাজধানী হিসেবে দেশ-বিদেশে সুপরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। কয়েক যুগ ধরে জেলার কৃষি ও অর্থনীতি আবর্তিত হয়েছে আমকে কেন্দ্র করেই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অনিয়মিত বৃষ্টি, রোগবালাই, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে আম চাষে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। এরই ধারাবাহিকতায় বিকল্প ও লাভজনক ফসল হিসেবে বরই চাষের দিকে ঝুঁকছেন জেলার শত শত কৃষক।

বর্তমানে জেলায় চায়না, বল সুন্দরী, বোম্বাই ফুলী, ডায়মন্ড, বাউকুল, থাই, বেবি সুন্দরী ও ভারত সুন্দরীসহ নানা জাতের বরইয়ের চাষ হচ্ছে। তুলনামূলক কম পরিচর্যা, স্বল্প খরচ এবং দ্রুত ফলন পাওয়ায় বরই চাষ কৃষকদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে। অনেক কৃষক আম বাগানের ফাঁকে ফাঁকে কিংবা দীর্ঘদিন পতিত থাকা জমিতে বরই চাষ শুরু করেছেন।

বরই বিপণনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর এলাকার বরইয়ের হাট। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পাশের জেলা থেকে কৃষকেরা ভ্যানে ও পিকআপে করে ক্যারেটভর্তি বরই নিয়ে হাটে আসেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আলি আসরাফ বলেন, ‌‘প্রতিদিন দুপুর ১২টার পর থেকেই কৃষকদের ভিড় বাড়তে থাকে। আড়তদাররা বরই বাছাই করে কিনে নেন। এখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বরই পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রতি মণ বরই সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

বরই চাষ করে আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন অনেক কৃষক। তাদেরই একজন শিবগঞ্জ উপজেলার বরই চাষি তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই আমি আম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন আমই ছিল আমাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় আম চাষে ধারাবাহিকভাবে লোকসান হচ্ছে। এতে আমরা চরম আর্থিক সংকটে পড়ে যাই।’

আরও পড়ুন
মিরসরাইয়ে অসময়ে তরমুজ চাষে সফল কৃষকেরা 
পানিফল চাষে কম খরচে বেশি লাভ 

তিনি বলেন, ‘বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে গিয়ে প্রথমে অল্প জমিতে বরই চাষ শুরু করি। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে দাম পাওয়ায় এখন অনেকটাই আশাবাদী। বরই চাষে খরচ কম, সময় কম লাগে এবং দ্রুত লাভ পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে আরও জমিতে বরই চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রায় ৫৬০ হেক্টর জমিতে বরই চাষ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘আম চাষে লোকসান হওয়ায় অনেক কৃষক বরই চাষের দিকে ঝুঁকছেন। মির্জাপুর হাট দিনে প্রায় ১ কোাটি টাকার বরই বিক্রি হয়। বরই একটি লাভজনক ফসল এবং এটি চাষিদের বিকল্প আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠছে।’

তিনি জানান, আধুনিক চাষপদ্ধতি, প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বরই চাষ ভবিষ্যতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও রপ্তানি উদ্যোগ বাড়ানো গেলে বরই চাষ শুধু কৃষকদের ভাগ্য বদলাবে না বরং আমনির্ভর অর্থনীতির বাইরে গিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জন্য একটি নতুন কৃষি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।

সোহান মাহমুদ/এসইউ

আরও পড়ুন