ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

বিপুল সমারোহে বৈশাখী শোভাযাত্রা, লোকে লোকারণ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | প্রকাশিত: ০২:৪৫ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। প্রাণের উচ্ছ্বাস, রঙের বর্ণিলতা আর লোকজ ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে বিশাল উৎসবমঞ্চে পরিণত হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ শোভাযাত্রা। সূচনালগ্ন থেকেই এতে অংশ নেন নানা বয়স, পেশা ও শ্রেণির মানুষ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শনার্থী; সবার উপস্থিতিতে শোভাযাত্রা পায় এক সার্বজনীন রূপ।

এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। এই প্রতিপাদ্যের প্রতিফলন দেখা গেছে শোভাযাত্রার প্রতিটি আয়োজনে, প্রতিটি মোটিফে, প্রতিটি শিল্পকর্মে।

বিপুল সমারোহে বৈশাখী শোভাযাত্রা, লোকে লোকারণ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রা, ছবি: জাগো নিউজ

ঢাবির চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি ঘুরে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হয়। পুরো পথজুড়ে দর্শনার্থীদের ঢল নামায় এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।

শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ ছিল রঙিন মুখোশ, বিশালাকার মোটিফ এবং লোকজ শিল্পের বহুমাত্রিক উপস্থাপনা। প্রতিটি মোটিফ যেন বহন করেছে আলাদা আলাদা বার্তা ও প্রতীকী তাৎপর্য। পাঁচটি প্রধান মোটিফ বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে দর্শনার্থীদের।

নতুন সূচনা ও অন্ধকারের অবসানের প্রতীক হিসেবে ‘মোরগ’, লোকজ ঐতিহ্য ও শক্তির প্রতীক ‘হাতি’, গ্রামীণ স্মৃতির বাহক টেপা আকৃতির ‘ঘোড়া’, শান্তি ও সহাবস্থানের প্রতীক ‘পায়রা’ এবং বাউল সংস্কৃতির সংহতি ও তাদের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদ হিসেবে ‘দোতারা’।

বিপুল সমারোহে বৈশাখী শোভাযাত্রা, লোকে লোকারণ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রায় থাকা বিশালাকার মোটিফ, ছবি: জাগো নিউজ

এছাড়াও ১৫০ ফুট দীর্ঘ স্ক্রল পেইন্টিং, বাঘ, মাছ, ময়ূর ও হরিণ শাবকের নান্দনিক প্রতিকৃতি শোভাযাত্রায় যোগ করেছে ভিন্নমাত্রার শৈল্পিকতা।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে স্থান পেয়েছে পাঁচটি পটচিত্র, যেখানে ফুটে উঠেছে সুন্দরবনের দেবী বনবিবি, মুঘল সম্রাট আকবর, বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চিত্র, গাজীর পট এবং মনসামঙ্গলের বেহুলার অনবদ্য কাহিনী। এসব শিল্পকর্ম যেন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের গল্প একসূত্রে গেঁথে দিয়েছে।

নিরাপত্তার বিষয়টিও ছিল সর্বোচ্চ গুরুত্বে। শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। শোভাযাত্রার একেবারে সামনে ছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস যোগ করে।

বিপুল সমারোহে বৈশাখী শোভাযাত্রা

বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রা, ছবি: জাগো নিউজ

শোভাযাত্রার সূচনায় জাতীয় পতাকা হাতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী। মূল ব্যানার নিয়ে নেতৃত্ব দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট এবং শিক্ষক-কর্মচারীরা এতে শামিল হন।

পহেলা বৈশাখ উদযাপনে রাজধানীবাসীর আস্থার কেন্দ্র হিসেবে আবারও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সকাল থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয় মানুষের ঢল, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও ঘন হয়ে ওঠে, একপর্যায়ে পুরো এলাকা রূপ নেয় লোকারণ্যে।

বিপুল সমারোহে বৈশাখী শোভাযাত্রা, লোকে লোকারণ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসা দর্শনার্থী সবুজ রায়হান বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান পরিচয়। ছায়ানট ও চারুকলার আয়োজন এই দিনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। তাই ঢাবিকে বলা যায় বৈশাখ উদযাপনের প্রাণকেন্দ্র।

তিনি বলেন, নতুন বছর আমাদের নতুন আশার বার্তা দেয়। অতীতের সব জড়তা ও গ্লানি পেছনে ফেলে নতুনভাবে জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা জোগায় এই নববর্ষ।

সব মিলিয়ে, বর্ণিল শোভাযাত্রা, লোকজ ঐতিহ্যের অনন্য উপস্থাপন এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রা হয়ে উঠেছে আনন্দ, ঐক্য ও নতুন প্রত্যয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক।

এফএআর/এমএমএআর