ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

ইবিতে র‌্যাগিংয়ের নামে যৌন হয়রানি

প্রকাশিত: ১১:৪৮ এএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিংয়ের নামে যৌন হয়রানির পৃথক দুইটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলিত পদার্থ ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউিনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে র‌্যাগিংয়ের নামে যৌন হয়রানিসহ মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নির্যাতিতরা।

গত বৃহস্পতিবার ওই বিভাগের ক্লাস রুমে তাদের সিনিয়রদের দ্বারা এ র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়েছে বলে জানা যায়। এদিকে গত ৩১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া কাস্টম মোড়ে শাহীন ম্যানসন নামের একটি মেসে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের আল-আমিন নামের এক শিক্ষার্থীকে ওই মেসে অবস্থানকারীরা সাড়ে ছয় ঘণ্টা ধরে র‌্যাগিংয়ের নামে বিভিন্নভাবে শারীরিক মানসিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানি করেছে বলে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভর্তি হয়ে র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতনে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে নবীন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং আইন করে নিষিদ্ধ করাসহ দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের ফলিত পদার্থ ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩১৯ নং কক্ষে নতুন বর্ষেও শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে গেলে বিভাগের ২য় বর্ষের (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) ছাত্র মো. জাকির হোসেন, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের রেসালাত হাসান মেরিন, আশিক চদ্র দাসসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদেরকে ক্লাসে ঢুকে বিভিন্ন ভাবে র‌্যাগিং করতে থাকে।

একপর্যায়ে তারা এক ছাত্রীদেরকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা করে তোর সাইজ কত? এ সময় ওই ছাত্রী লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখে বলে উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা জানায়।

এদিকে বেলা ৩টা থেকে বিভাগের সিনিয়র ওই শিক্ষার্থীরা ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের নবীন এক ছাত্রীকে ফোন করে সাদ্দাম হোসেন হলের সামনে আসতে চাপ দিতে থাকে ওই ছাত্ররা। পরে তারা ছাত্রীদের হলের সামনে গিয়ে তার সাথে দেখা করে। এ সময় তারা ওই ছাত্রীকে ঘিরে ধরে স্মার্ট ফোনে ছবি তুলতে থাকে। এ সময় উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হলে পৌঁছে দেয়।

ছাত্রীর যৌন হয়রানির ঘটনাটি শনিবার উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর রশিদ আসকারীকে জানানো হয়। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয় বলে জানান। তবে ঘটনা সত্য হলে তাদেরকে শোকজ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে এ ঘটনায় শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান নির্যাতিত ছাত্রীসহ তার জেলার কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে ডেকে ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন।

এছাড়াও কুষ্টিয়া কাস্টম মোড়ের শাহীন ম্যানসন নামের একটি মেসে র‌্যাগিংয়ের শিকার হওয়া আল আমিন জানান, রাত ৮টা থেকে শুরু করে রাত আড়াইটা পর্যন্ত টানা সাড়ে ছয় ঘণ্টা তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।

এ সময় তাকে একটি কোল বালিশ দিয়ে বলা হয় বাসর রাতে নতুন বউয়ের সাথে কি কি করে তার অভিনয় দেখা। এভাবে বিভিন্নভাবে তাকে যৌন হয়রানি করা হয়। এছাড়া তাকে দুই কান ধরে এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এ র‌্যাগিংয়ের পরে ওই শিক্ষার্থী কিছুটা মানসিক ভারসম্যহীন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে ফলিত পদার্থ ও ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমউিনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষা বর্ষের নির্যাতিত ওই ছাত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভর্তি হয়ে এ ধরনের বিড়ম্বণায় পড়তে হবে এটা কখনো ভাবেনি। তারা ক্লাসে আমাদেরকে র‌্যাগ দিয়েছে। পরে আমাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন দিয়ে হুমকি দিয়েছে। পরে বিকেলে খুব বাজে ব্যবহার করেছে।

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/এএম/আরআইপি