৮ দিন পর কুবিতে ক্লাশ শুরু কিন্তু বন্ধ পরীক্ষা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ ক্যাডার ইলিয়াস হোসেন সবুজের মুক্তির দাবিতে ডাকা ধর্মঘটের ৮ দিন পর সোমবার সকাল থেকে পুনরায় কুবিতে ক্লাশ শুরু হয়েছে। তবে সবুজের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কুবিতে কোন পরীক্ষা হতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছেন সবুজের সমর্থকরা।
এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে কুবির ভিসি প্রফেসর ড.আলী আশ্রাফ জাগো নিউজকে জানান, অস্ত্রসহ সবুজের গ্রেফতার, দল থেকে বহিষ্কার এবং মুক্তির বিষয়ে সমর্থকদের আন্দোলন পুরো বিষয়টিই জটিল, সব কিছুই আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান হতে হবে, কিন্তু এনিয়ে ধর্মঘট করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রয়োজনে সিন্ডিকেটের জরুরী সভা আহ্বান করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল দুপুরে কোটবাড়ি সালমানপুর এলাকা থেকে ২ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি মোটরসাইকেলসহ কুবির লোকপ্রশাসন বিভাগের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ ক্যাডার ইলিয়াস হোসেন সবুজকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে সবুজের মুক্তির দাবিতে তার সমর্থকরা গত ২৬ এপ্রিল থেকে কুবির সকল পরীক্ষা ও ক্লাশ বন্ধ করে দিয়ে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধর্মঘট আহ্বান করে। এরই মধ্যে গত ৩ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম থেকে সবুজকে বহিষ্কার করা হয়।
কুবির প্রক্টর আইনুল হক জাগো নিউজকে জানান, সবুজের সমর্থকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তারা আপাতত ক্লাশ চালুর বিষয়ে সাড়া দিলেও সবুজের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে এখনো অনঢ় রয়েছে।
এদিকে কুবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগ ক্যাডার সবুজের পক্ষ নেয়া কিছু ছাত্রের হাতেই যেন কুবি প্রশাসন জিম্মি হয়ে রয়েছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ায় গত ৮ দিনে অন্তত এক ডজন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এতে তাদের শিক্ষা জীবনের অনেক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান।
কুবি ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মাসুম জানান, সবুজ অস্ত্রসহ র্যা বের হাতে গ্রেফতার হয়েছে, তাই তার মুক্তির বিষয়ে কতিপয় ছাত্রের হাতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জিম্মি থাকতে পারে না। তাই সকল শিক্ষার্থীর স্বার্থেই প্রশাসনকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মো. কামাল উদ্দিন/এমজেড/পিআর/আরআই