ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

বিদ্রোহী গ্রুপের হামলায় ইবি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকসহ আহত ২০

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া | প্রকাশিত: ০৩:২০ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০

দলীয় বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মীদের হামলায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের মাথা ফেটে যায়। তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মীরা সম্পাদক রাকিবকে গ্রেফতারের দাবিতে দুপুর দেড়টা থেকে আধাঘণ্টা খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এসময় রাস্তার উভয় পাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে অবরোধ তুলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন তারা। এতে ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের উদ্দেশে দুপুর ২টার শিফটের গাড়ি ছেড়ে যেতে পারেনি। চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

iu

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক ক্যাম্পাসে প্রবেশের সংবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে দলীয় টেন্টে অবস্থান নেয় বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মীরা। বেলা ১১টার দিকে সভাপতি-সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা প্রধান ফটকে জড়ো হলে তাদের ওপর হামলা চালায় বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মীরা। এ ঘটনায় তিনজন আহত হন। এরপর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মহড়া দিতে দেখা যায় বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মীদের।

বেলা দেড়টার দিকে সভাপতি-সম্পাদকের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের একটি মিছিল থানা গেট থেকে প্রধান ফটকের দিকে আসে। এ সময় বিদ্রোহীকর্মীরা দলীয় টেন্ট থেকে মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকে গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় গ্রুপের হাতে বাঁশ, লাঠিসোটা ও রড ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটে। এতে ছাত্রলীগ সভাপতি পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে নেয়া হয়েছে। বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

iu

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘোষণার জন্য ক্যাম্পাসে যাই। কিন্তু ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর আগেই আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এর প্রতিবাদে মিছিল বের করলে আমার ওপরও হামলা হয়। এতে ২০ জনেরও বেশি আহত হন। সাধারণ সম্পাদক রাকিব গুরুতর আহত। তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে বিষয়টি অবহিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

iu

দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আনিছুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের এমন সংঘর্ষের গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়ন করা হয়। র‌্যাবও টহল দেয়। তবে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

গত ছয় মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত ১৪ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটি ঘোষণার কিছুদিন পর সাধারণ সম্পাদকের একটি অডিও ফাঁস হয়। এতে শোনা যায়, কমিটির সাধারণ সম্পাদক হতে তার অন্তত ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরপরই একটি অংশের নেতাকর্মীরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এ ছয় মাসের মধ্যে অন্তত চারবার ক্যাম্পাসে ঢুকতে গেলে বিদ্রোহীরা তাদের বিতাড়িত করেন।

বিএ/এমএআর/জেআইএম/এমএস