সহকারী জজ পদে ইবির ৬ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ
১৩তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় (বিজেএস) সহকারী জজ পদে উত্তীর্ণ ও মনোনীত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী।
শনিবার (১২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শরীফ এ এম রেজা জাকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
প্রকাশিত ফলাফলে ১০০ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ ও মনোনীত হয়েছেন। এরমধ্যে ইবির আইন বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ ও মনোনীত হয়েছেন। যার মধ্যে চারজনই নারী।
উত্তীর্ণরা হলেন- ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের আরিফা আক্তার (মেধাক্রম-অষ্টম), ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের যথাক্রমে আয়েশা সিদ্দীকা (মেধাক্রম-৯৬তম) ও অর্পিতা আক্তার (মেধাক্রম-৩১তম) এবং ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের লাবনী খাতুন (মেধাক্রম-৬৫তম)।
ছেলেদের মধ্যে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের সাদ্দাম হোসাইন (মেধাক্রম-৫৮তম) এবং ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মো. মেহেদী হাসান (মেধাক্রম-২৯তম) উত্তীর্ণ ও মনোনীত হয়েছেন।
টানা চারবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এবারেই উত্তীর্ণ ও মনোনীত হয়েছেন মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান অধিকারী আরিফা আক্তার। এর আগেও কয়েকবার প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।
বারবার ভাইভা বোর্ড থেকে ফিরে এলেও হাল ছাড়েননি আরিফা। ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মধ্যদিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছেন জীবনের সেরা প্রাপ্তিটুকু। সফলতার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি খুব মেধাবী নই। আবার এ সফলতা ও অভিজ্ঞতাটাও অন্যদের তুলনায় কষ্টের।’
আরিফা আক্তার বলেন, ‘যেকোনো প্রাপ্তির পেছনে আল্লাহর সন্তুষ্টি, চেষ্টা ও বাবা মায়ের দোয়া কাজে দেয়। আমার বাবা বেচেঁ নেই। তাই শুধু আম্মা দোয়া করেছেন। এখনকার চাকরি মেধার চেয়ে ধৈর্যের ওপর বেশি নির্ভর করে। তাই ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেলে সফলতা আসবেই। বাধাবিহীন সফলতার আনন্দ কম, তাই বাধাটা থাকাই ভালো।’
এদিকে প্রথমবারেই সহকারী জজ পদে উত্তীর্ণ হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ইতিহাসে প্রথমবারেই তিনিই সহকারী জজ পদে উত্তীর্ণ ও মনোনীত হলেন।
এ অভাবনীয় সাফল্যের কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে মেহেদী হাসান বলেন, ‘নিয়মিত পড়াশুনা, সিরিয়াস না হয়ে সিন্সিয়ার হওয়া, হাতের লেখা ভালো করা, নিজস্ব হ্যান্ডনোট তৈরিসহ বিগত বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে স্বচ্ছ ধারণা নেয়ার মাধ্যমে আমি এ সাফল্যের মুখ দেখেছি। সর্বোপরি সকলের দোয়া ও ভালোবাসাই ছিল অনুপ্রেরণার মূল উৎস।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. শাহজাহান মণ্ডল বলেন, ‘উত্তীর্ণ ছয় শিক্ষার্থীকে আমার নিজের ও বিভাগের পক্ষ থেকে অভিনন্দন। তবে সংখ্যাটা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। শুধু আইন বিভাগ নয়, অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও তাদের অর্জিত জ্ঞান মানবসেবায় কাজে লাগাতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য সাধিত হয়।’
রায়হান মাহবুব/এসআর/এমএস
সর্বশেষ - ক্যাম্পাস
- ১ চবিতে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি
- ২ শাকসু নির্বাচন আয়োজনে নতুন প্রজ্ঞাপন চায় ছাত্রশিবির
- ৩ রাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু শুক্রবার, আসনপ্রতি লড়বেন ৬৭ শিক্ষার্থী
- ৪ জাতীয় বেতন কমিশন থেকে পদত্যাগের কথা জানালেন অধ্যাপক মাকছুদুর
- ৫ শাকসুর দাবিতে দেওয়া স্মারকলিপি প্রত্যাহার করলেন দুই ভিপি প্রার্থী