ভিডিও EN
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

কুবিতে ছাত্রলীগের সিনিয়রকে জুনিয়র নেত্রীর মারধর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:১৭ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২২

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলে ছাত্রলীগের সিনিয়রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জুনিয়র নেত্রীর বিরুদ্ধে। শনিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ওই হলের ২০৯ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী লোক প্রশাসন বিভাগের ১০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সদস্য এবং অভিযুক্ত ছাত্রী আইসিটি বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীর ও হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ, তিনি আইসিটি বিভাগের ওই ছাত্রী দ্বারা কয়েকবার দুর্ব্যবহার শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ ও শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে জানানো হলেও কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে নিজের বিছানার পাশে বইয়ের তাক রাখেন সিনিয়র ছাত্রী। এ সময় জুনিয়র ছাত্রী তাক সরাতে বললে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রাত ৮টার দিকে হলের লকারের চাবিকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ছাত্রীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করেন জুনিয়র ওই ছাত্রী। এর প্রতিবাদ করলে সিনিয়রের চুলের মুঠি চেপে মারধর করতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে সিনিয়র ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে হলে অবস্থানকারী বাকি ছাত্রীদের সহযোগিতায় তিনি জ্ঞান ফিরে পান।

মারধরের শিকার শাখা ছাত্রলীগ নেত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘তিন বছর ধরেই আমাকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকি ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে মেয়েটি (জুনিয়র ছাত্রী)। আমি এর বিচার চাই।’

হল ছাত্রলীগের আরেক নেত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, হল শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে তার (উপ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক) পদ থাকলেও তাকে কখনো দলীয় কোনো কার্যক্রমে দেখা যায় না।

তবে মারধরের বিষয়ে অস্বীকার করে অভিযুক্ত হল শাখা ছাত্রলীগের এ নেত্রী বলেন, এরকম কিছুই হয়নি। আপুর সঙ্গে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল। পরে আমি আপুকে সরি বলেছি। এটি রুমের মধ্যে ছিল, রুমের মধ্যে সমাধান হয়েছে।

ছাত্রলীগের পদ ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আরেক নেত্রীর ওপর আমি কীভাবে প্রভাব খাটাবো? তিনিও নেত্রী।

তবে এসব বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, কোনো পক্ষ থেকে আমাদের এ সম্পর্কে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

এ বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তিনি রিসিভ করেননি।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, আমি এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। হলের বিষয় হলের প্রভোস্ট দেখেন। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসলে আমরা খতিয়ে দেখবো।

এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ মো. সাদেকুজ্জামান তনু জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনার সময় আমি বিভাগের কাজে বাইরে ছিলাম। খবর পেয়ে দু’জন আবাসিক শিক্ষককে পাঠিয়েছি। তারা তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজ রাখছি।

এসজে/জিকেএস