নোবিপ্রবিতে যৌন হয়রানির দায়ে সহকারী অধ্যাপকের পদাবনতি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির দায়ে এস এম মুশফিকুর রহমান আশিক নামে এক সহকারী অধ্যাপককে প্রভাষক পদে পদাবনতি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রমোশন, আপগ্রেডেশনসহ শিক্ষাছুটি পাবেন না তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবদুল বাকি স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৪ ও ১৬ আগস্ট একটি বিভাগের ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রীরা সহকারী অধ্যাপক মুশফিকুর রহমান আশিকের বিরুদ্ধে নম্বর টেম্পারিং, যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন ও পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীদের রাতে ডেকে নিয়ে নিজ অফিস কক্ষে বসিয়ে রাখা, পরীক্ষায় খেয়াল খুশিমতো নম্বর দেওয়া, পরীক্ষার আগে পছন্দের শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন বলে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে শিক্ষা অনুষদের ডিন এবং বিভাগটির চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডিন বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
এদিকে সহকারী অধ্যাপক এস এম মুশফিকুর রহমান আশিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেলের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। মুশফিকুর রহমানের অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশের আলোকে গত ২৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শাস্তিগুলো হলো, আগামী পাঁচ বছরের জন্য ওই শিক্ষক প্রভাষক পদে পদাবনতি থাকবেন। এ সময় তিনি পদোন্নতি কিংবা আপগ্রেডেশনের কোনো আবেদন করতে পারবেন না এবং শিক্ষাছুটিতে যেতে পারবেন না। ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হবে।
বিভাগের বর্তমান যেসব ব্যাচের শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যাচগুলোর কোনো একাডেমিক (ক্লাস ও পরীক্ষা) বা প্রশাসনিক কাজে অংশ নিতে পারবেন না তিনি। তবে বিভাগের নতুন ব্যাচে তিনি ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তার ক্লাস কার্যক্রম বিভাগীয় চেয়ারম্যান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক এস এম মুশফিকুর রহমান আশিককে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে এ ধরনের ঘটনায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
ইকবাল হোসেন মজনু/এফএ/জিকেএস