ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | বেরোবি | প্রকাশিত: ০৯:১৭ এএম, ১৪ জুন ২০২৩

প্রতিষ্ঠার ১৫ বছরের পেরিয়ে গেলেও আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। হলে সিট না পেয়ে ভোগান্তি পড়তে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেরোবিতে বর্তমানে ছয়টি অনুষদের ২২টি বিভাগে শিক্ষার্থী আছে প্রায় ৮ হাজার। আর ক্যাম্পাসে থাকা চারটি আবাসিক হলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ প্রকল্প ছাত্রীদের জন্য (শেখ হাসিনা হল) আবাসিক ১০ তলা ভবন কাজ থমকে আছে। বাকি তিনটি আবাসিক হলে আসন সংখ্যা মাত্র ৯৩৭টি। এর মধ্যে ছেলেদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে সর্বাধিক আসন ৩০৪টি ও শহীদ মুখতার ইলাহী হলে ২৪০টি। আর মেয়েদের একমাত্র শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ৩৪২টি আসন রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় যা অতি নগণ্য। বর্তমানে আবাসিক সংকটই বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় সমস্যা।

আরও পড়ুন: প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর মূল সনদ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

এদিকে আবাসিক সংকটের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিম্মি হতে হচ্ছে মেস মালিকের হাতে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে থাকতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেসে ও ভাড়া বাড়িতে। এ সুযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে গড়ে উঠেছে রমরমা মেস বাণিজ্য। বিকল্প না থাকায় মেস মালিকরা স্বেচ্ছাচারী আচরণ করেন। কেউ দু-এক মাসের জন্য উঠতে চাইলেও তাকে তিন মাসের টাকা জামানত দিতে হয়। এতে বিপাকে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেও মেসের চড়া দামের খাবার বিল দিয়ে অতি কষ্টে দিন পার করছেন গরিব শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে হলে হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী সিট পেলেও সেখানে নেই পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ।

আবাসিক হলে থাকা একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি রুমে চারজনের পরিবর্তে ১০ জন থাকছে। এতে করে পড়াশোনার জন্য ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পরিবারের কাছ থেকে তেমন আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় কষ্ট হলেও গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে তাদের।

ছাত্রী হলেও একই সমস্যা। সবাইকে ডাবলিং করে থাকতে হচ্ছে। খাওয়া, গোসল, ঘুম সবকিছুই পালা করে করতে হচ্ছে। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থী নুপুর (ছদ্মনাম) বলেন, একরুমে আটজন থাকা, ছোট একবেডে দুজন গাদাগাদি করে থাকা লাগে।

আরও পড়ুন: ‘মাদক সেবন’ দেখে ফেলায় বেরোবির দুই শিক্ষার্থীকে স্থানীয়দের মারধর

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কমল দেবনাথ বলেন, হলে এভাবে একবিছানায় দুজন থাকা খুবই কষ্টকর। ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। গাদাগাদি থাকার কারণে পড়াশোনা ঠিকমতো করতে পারি না।

এদিকে অনার্স শেষ করেও হলে সিট না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাকের হোসেন পাশা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আবাসিক হলে সিট না পাওয়া সত্যি অনেকটা আক্ষেপ ও খারাপ লাগার। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষের পথে হলেও সিট পাইনি। আবাসন সংকটের মূল কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর তুলনায় হল সংখ্যা অপ্রতুল। একই সঙ্গে হলে বৈধ পন্থায় সিট বণ্টনে রয়েছে প্রশাসনের উদাসীনতা ও যথাযথ উদ্যোগের অভাব।

হলে সিট না পাওয়া একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা ছাত্র রাজনীতি করি না এ জন্য হলের আবাসিক সুবিধাও পাই না।

আরও পড়ুন: বেরোবি থেকে বরখাস্ত যৌতুক মামলায় কারাবন্দি আরিফুল

আবাসন সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে বেরোবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া বলেন, আবাসন সংকট সমস্যাটি আমাদের দীর্ঘদিনের। ৮-১০ হাজার শিক্ষার্থীর তুলনায় মাত্র কয়েকশ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বিশেষ প্রকল্পের দশতলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা ছাত্রী হল দুর্নীতি সংক্রান্ত নানা জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়ে আছে। নতুন হল নির্মাণের উদ্যোগও গ্রহণ করতে দেখছি না আমরা। আমরা প্রত্যাশা করবো আবাসন সংকট দূর করতে নতুন হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি অডিটোরিয়াম, টিএসসিসহ অবকাঠামোগত সব উন্নয়নে উদ্যোগী হবেন বর্তমান প্রশাসন।

এ বিষয়ে বেরোবি রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, হল সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আমরা ইউজিসিকে জানিয়েছি। হল সংখ্যা বাড়ানোর বাজেট পেলেই কাজ শুরু করবো। খুব শীঘ্রই শেখ হাসিনা হলের (১০ তলা) কাজ শুরু হবে। তখন মেয়েদের আর বাইরে থাকতে হবে না। তাদের সমস্যা সমাধান হবে আশা করি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল প্রভোস্ট বিজন মোহন চাঁকী জাগো নিউজকে বলেন, আবাসন সংকটের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা ইউজিসিকে তিনটি হল প্রস্তাবনার জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে।

আরও পড়ুন: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর শরিফুল ইসলাম

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ জাগো নিউজকে বলেন, ভৌত অবকাঠামো সংকট নিরসনে একটি মেগা প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটির অনুমোদন পেলে ভৌত অবকাঠামগত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করি।

জেএস/এএসএম