শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল চুয়েট
সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল নিহতের ঘটনায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে লেগুনা চলাচল বন্ধসহ আট দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২৯ মার্চ (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের মদুনাঘাটে লেগুনা উল্টে গিয়ে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল। এরপর বুধবার ও বৃহস্পতিবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে আট দফা দাবিতে আন্দোলন নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
দাবিগুলো হলো- ঘাতক লেগুনা চালককে আটক, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে লেগুনা চলাচল বন্ধ করা, নিউমার্কেট থেকে চুয়েট পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করা, অনিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা, রাস্তার মাথা থেকে চুয়েট পর্যন্ত স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা, এই রুটে প্রতি পাঁচ কিলোমিটারে একটি করে ট্রাফিক চেকপোস্ট স্থাপন, রাস্তার সম্প্রসারণ ও সংস্কারকরণ এবং চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের সামনে সার্বক্ষণিকভাবে দুইটি এ্যাম্বুলেন্স রাখা ও ব্যক্তিগত কাজে এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার বন্ধ করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে, বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে চুয়েটের সব ধরণের একাডেমিক কার্যক্রম। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা গোলচত্বর সংলগ্ন কয়েকটি স্থানে পেট্রল-টায়ার নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমন্বয়কারী অটল ভৌমিক বলেন, ‘আন্দোলনের প্রথম দিন প্রশাসন নানা আশ্বাস দিলেও তার একটিও বাস্তবায়ন করেনি। এই ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বুধ ও বৃহস্পতিবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছিলো। আজ সকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে।’
জীবন মুছা/জেএইচ/আরআইপি