ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আ.লীগ নেতাকে আটকের প্রতিবাদে যশোরে পরিবহন ধর্মঘট

প্রকাশিত: ১০:১৬ এএম, ২১ মে ২০১৬

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও শহর আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সম্পাদক ইমাম হাসান লালের মুক্তির দাবিতে আধাবেলা ধর্মঘট পালন করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়া এলাকার নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। গত ৩১ মার্চ যশোর সদরের ইউপি নির্বাচনে চাঁচড়া কেন্দ্রে বোমাবাজি, গোলাগুলিতে এক ফেরিওয়ালা নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এদিকে, তাকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক মামলায়’ আটকের প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। আর মুক্তির দাবিতে আধবেলা পরিবহন ও ইজিবাইক ধর্মঘট পালন করেছে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

যশোর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত ৩১ মার্চ যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বোমাবাজি ও গোলাগুলিতে আবদুস সাত্তার বিশে (৭০) নামে এক ফেরিওয়ালা নিহত হন। আর এ ঘটনায় নিহত বিশের ছেলে ফারুক হোসেন বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলার আসামি হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা ইমাম হাসান লালকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে ষষ্ঠীতলাপাড়া এলাকা তাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে ওই মামলার আরো দুই আসামি আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে জাকির হোসেন ও মৃত রাজা মিয়ার ছেলে তরিকুল ইসলাম ওরফে গন্ডার বাবু। তাদের বাড়িও ষষ্ঠীতলাপাড়া এলাকা।

এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা ইমাম হাসান লালের আটকের প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, যশোর সদরের ইউপি নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগ নেতা ইমাম হাসান লালসহ আজিজুল আলম মিন্টু ও গোলাম মোস্তফা রামনগর ইউনিয়নের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। এই নেতৃবৃন্দ ওই ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে ফলাফল নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে ফিরেছেন।

AL-press-conf

আর এ দিন সকাল সোয়া ১১টার দিকে চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একজন ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এতে একজন ফেরিওয়ালা নিহত হন। এ ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইমাম হাসান লালকে আসামি করা হয়েছে। ওই দিন তিনি চাঁচড়া ইউনিয়নেই যাননি। অথচ এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।

মীর জহুরুল ইসলাম দাবি করেন, পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কতিপয় কর্মকর্তা এই ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছে। ইতোপূর্বেও তাদের নানা কর্মকাণ্ডে যশোরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আর এতে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের।

মীর জহুরুল ইসলাম আরো জানান, আটকের প্রতিবাদে বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতি সকাল থেকে যশোরে সবধরণের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। শ্রমিক নেতাকর্মীরা শহরের মণিহার ও খাজুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক কর্মসূচি পালিত হয়। একই সময়ে শহরে ইজিবাইক ধর্মঘট পালন করেছেন ইজিবাইক চালক শ্রমিকরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পীযুষকান্তি ভট্টাচার্য, মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত হোসেন, আব্দুল খালেক, দফতর সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, ইউপি চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম, এহসানুর রহমান লিটু, পরিবহন শ্রমিক নেতা আজিজুল আলম মিন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা পৌর কাউন্সিলর রোকেয়া পারভীন ডলি, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা, হাবিবুর রহমান চাকলাদার মনি ও গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

মিলন রহমান/এআরএ/আরআইপি