শরীয়তপুরে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় প্রার্থীরা
শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দুটি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (২৮ মে)।
নির্বাচনকে সামনে রেখে যে সব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও বিএনপির প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছে সে সব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থকরা নির্বাচন কেন্দ্রে না আশার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কোনো কোনো এলাকায় হামলা-পাল্টা হামলা, মামলার ঘটনা ঘটছে। শনিবার ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে হলে নৌকায় ভোট দিতে হবে এমন প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীর নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে। ভোট কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা করে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা এড়ছে রির্টানিং কর্মকর্তাদের কাছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় ও নির্বাচনী এলাকা ঘুরে জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরার ১৭টি ইউনিয়নে ২৮ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৬টি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে এ উপজেলার রাজনগর, মোক্তারেরচর, বিঝারী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় চলাচলে বাধা ও হুমকি প্রদানের ঘটনা ঘটছে।
বিঝারী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা এলাকায় ঘুরে বলে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনের দিন উন্মুক্ত ভোট নেয়া হবে। নৌকায় ভোট দিতে হবে নয়তো এলাকায় থাকতে দেয়া হবে না বলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে রিটারনিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
এদিকে, রাজনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জাকির হোসেন গাজী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু আলম মাদবর একে-অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন। তাদের দু’জনেরই অভিযোগ নির্বাচনের দিন ভোট কেটে একে অপরের বিজয় ছিনিয়ে নিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা দু’জনই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শরীয়তপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, নির্বাচনী এলাকার পরিবেশ এখনো সুষ্ঠু রয়েছে। দু’একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ছগির হোসেন/এসএস/এমএস