জেলায় জেলায় সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের, যানজটে ভোগান্তি
ছয় দফা দাবিতে সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেছেন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা
ছয় দফা দাবিতে সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেছেন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এতে দেখা দিয়েছে যানজট। কয়েক জায়গায় রেলপথ অবরোধ করা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো-
• জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে অবিলম্বে ৩০ শতাংশ ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর কোটা বাতিল করতে হবে;
• জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (টেক) পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক ‘ডিপ্লোমা প্রকৌশল’ ডিগ্রি থাকতে হবে;
• ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরসহ দেশের কারিগরি সব পদে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল নিয়োগ দিতে হবে;
• কারিগরি (পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের জন্য) সব বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে;
• কারিগরি শিক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের চাকরির আবেদনের সুযোগ বাস্তবায়ন করতে হবে; এবং
• ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য প্রাইভেট সেক্টরে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল নির্ধারণ করে দিতে হবে।
জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
টাঙ্গাইল
দুপুর ১২টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের রাবনা বাইপাসে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশেই ১০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়তে যাত্রীদের।
কারিগরির শিক্ষার্থীরা বলেন, সম্প্রতি হাইকোর্ট ৩০ শতাংশ পদ দিয়ে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের পদোন্নতির পক্ষে রায় দেন। ফলে তারা প্রমোশন পেয়ে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হবেন। আর এই পদটি হচ্ছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য। যারা ডিপ্লোমা পাস করে বের হবেন তাদের চাকরির শূন্য পদ ৩০ শতাংশ কমে গেলো। হাইকোর্টের এমন রায় আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

তারা আরও বলেন, আমাদের ছয় দফা দাবি মানতে হবে। অবিলম্বে হাইকোর্টের রায় বাতিল না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন শিক্ষার্থীরা।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীর আহমেদ বলেন, পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের আশ্বাস ছিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।
পাবনা
৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নিয়েছেন পাবনার পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা। এর আগে অবরোধ তুলে নিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েক দফা চেষ্টা চালানো হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলামের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।
ফেনী
ফেনীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত ফেনী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এসময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিট ফেনী স্টেশনে আটকা পড়ে। একই সময়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী ৪৫ মিনিট পর্যন্ত গুনবতি স্টেশনে সংকেতের অপেক্ষায় ছিল। এসময় রেলক্রসিং এলাকায় রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার পরিবহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটে সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফুর রহমান ও ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রদের বুঝিয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করান।

নরসিংদী
নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এই অবরোধ শুরু হয়। এসময় মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আশ্বাস দিলে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।
সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ শহরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাত শতাধিক শিক্ষার্থী। বেলা ১১ থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত শহরের নিউ ঢাকা রোডের রেলগেট এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোয়ার হোসেন ও সদর আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মারুফ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন।
কুমিল্লা
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীবাহী পরিবহন ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো। দুপুর ১২টা থেকে মহাসড়ক কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
খবর পেয়ে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানায়। একপর্যায়ে দুপুর দেড়টার দিকে ফাঁকাগুলি করলে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এরপর মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
দিনাজপুর
দিনাজপুরে রেলপথ অবরোধ করছেন আন্দোলনরত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। তারা দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড রেলক্রসিংয়ের ওপর বসে পড়েন। এতে ঢাকাগামী দুটি ও রাজশাহীগামী একটিসহ তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রী নিয়ে আটকা পড়েছে। ওই সড়ক দিয়ে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুর দিয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন পর্যন্ত রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে সকাল ৯টা থেকে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের অবৈধ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেছেন। চলমান মিড টার্ম পরীক্ষা বর্জন করে ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা। এখন পর্যন্ত তাদের ছয় দফা দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। সে কারণে ঈদের পর আজ থেকে আবারও আন্দোলন শুরু করেছেন। বিকেল ৫টার আগে তারা রেলক্রসিং থেকে উঠবেন না বলে প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ছয় দফা দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
এসময় মহানন্দা সেতুর ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা। জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আলী হাসান নামের একজন স্কুলশিক্ষক বলেন, আমার বাড়ি শিবগঞ্জে। ছেলের অসুস্থতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম। কিন্তু মহানন্দা সেতুতে এসে দেখি সড়ক অবরোধ। এখন গন্তব্যে যেতে পারছি না। ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছি।
রাজশাহী
রাজশাহীতে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ভদ্রা মোড়ে রেললাইনে আগুন দিয়ে তারা অবরোধ করেন। রেললাইন অবরোধের ফলে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সব ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আটকা পড়ে ট্রেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

খুলনা
খুলনায় ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। সকাল সোয়া ৯টার দিকে খুলনা রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস নগরীর বয়রা জংশন এলাকায় পৌঁছালে চারটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ট্রেনটি আটকে দেন। এতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা রেলপথ বন্ধ ছিল। পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা এ অবরোধ তুলে নেন।
এসআর/জিকেএস
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ নারায়ণগঞ্জে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধার
- ২ ফরিদপুরে ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি, জরিমানা
- ৩ প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নিলেন ছাত্রলীগ নেতা
- ৪ নেত্রকোনায় চোরাচালানের ৩ মামলার আসামি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে বহিষ্কার
- ৫ টাঙ্গাইলে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২