দিনাজপুরে পুলিশের এসআই কারাগারে
প্রতীকী ছবি
নিলাম জালিয়াতি ও স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও পুলিশের সোর্স বলে পরিচিত মটরসাইকেল ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য আবু সাইদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
জাহাঙ্গীর হোসেন বর্তমানে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার কর্মরত রয়েছেন এবং সাইদ বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের আওলাখুড়ী গ্রামের মৃত মাওলানা মো. আবু তাহেরে ছেলে।
বুধবার দুপুর ১২টায় আত্মসমর্পন করে জামিন প্রার্থনা করলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মো. এহসানুল হক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ৫ মে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় আদালতের কাগজপত্র ও বিচারকের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের নাজির মো. মামুন হাসান। একই অভিযোগে বীরগঞ্জের এনামুল মুন্সীর ছেলে মো. আব্দুল গাফ্ফার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-২ আরো ১টি মামলা করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন ও সোর্স আবু সাইদ নিলামে বীরগঞ্জ থানার মালখানার বেশকিছু পুরাতন মোটরসাইকেল নগদ ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকায় আব্দুল গাফ্ফারের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু গত ১৪ এপ্রিল বীরগঞ্জ থানা পুলিশ মামলার ২নং সাক্ষী মো. বদিউল আলমের মোটরসাইকেলটি আটক করে। বদিউল আলম মোটরসাইকেলটি নিলামে ক্রয়ের কাগজপত্রাদি প্রদর্শন করলে এবং উল্লেখিত আসামিদের কাছ থেকে ক্রয়ের কথা জানানোর পরও পুলিশ কাগজপত্রগুলো সঠিক নেই বলে জানান এবং নিলামের কাগজপত্রাদি পরীক্ষা করতে বলেন।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কাগজপত্র পরীক্ষার জন্যে গেলে মামলার ২৪ নং সাক্ষী মো. মামুন হাসান নাজির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জানান, গাড়ি নিলামের দলিলগুলোর রের্কড তাদের কাছে নেই। এগুলো জাল কাগজপত্র।
বাদীর মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে উল্লেখিত আসামিরা পরস্পর যোগসাযোশে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল করে ২৩টি মোটরসাইকেল বিক্রি করে ২৭ লাখ ৪৫ হাজার ৫ শত টাকা আত্মসাৎ এবং বাদীকে আর্থিক ও আইনী হয়রানি করছেন।
এমদাদুল হক মিলন/এফএ/এমএস