শেষ মুহূর্তে প্রচারণায় উত্তাল নোয়াখালীর ১০ ইউনিয়ন
নানা শঙ্কা আর সংশয়ের মধ্যে দিয়ে ৬ষ্ঠ ধাপে আগামী ৪ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নোয়াখালীর সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। তাই শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচরাণায় উত্তাল এখন উপজেলাগুলো।
দলীয় নেতা-কর্মী আর সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেকে দলীয় প্রার্থী বলে পরিচয় দিয়ে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তের পাশাপাশি পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। আর ভোটরারা বলছেন দেখেশুনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন।
সরেজমিনে জেলার সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, গোটা উপজেলায় চলছে পুরোদমে নির্বাচনী আমেজ। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি আবার প্রখর রোদের তাপের মধ্যে চরাঞ্চলের ভোটাররা এখন নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত। কৃষি জমি থেকে শুরু করে বাজারে চায়ের দোকানের আড্ডায় সবার মুখে আলোচনার প্রধান বিষয় ভোট।
আন্ডার চর ইউনিয়নের বাংলাবাজারে চায়ের দোকানে কথা হয় ভোটার সফিকের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে জানান, ভোট একখান আইলে কত জনে আঁই ভোট চায়। এটা করি দিমু, সেটা করি দিমু। তবে যে যাই বলুক আমরা কিন্তু ভালা যেতে হেতাঁরে ভোট দিয়ুম। যেতে আঙ্গো রাস্তা ঘাট, কারেন্ট আনি দিতে হাইরবো এরকম চাই ভোট দিয়ুম।
খানিকটা দূরে করমুল্যাহ বাজারে গিয়ে দেখা গেলো সেখানেও বিভিন্ন প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা এলাকা। হাট বার থাকায় এ বাজার ছিলো সরগরম। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে নানা ধরনের গান আর স্লোগান দিয়ে চলছে মাইকিং। সেখানেও কথা হয় বেশ কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে।
তবে সবার কথা ভোট তো দিমু। এখন ভোটের যে অবস্থা। কেন্দ্রে তো যান যায় না। যদি যাই ভোট দিতে হারি তই ভালা চাই যেতে অচার বিচার ভালা মতো কইত্তো হাইরবো, গরীবের কষ্টের কথা বুইজবো, হে রকম চাই চেয়ারম্যান ও মেম্বাররে ভোট দিমু।
ভোটাররা যেমন প্রার্থীদের নিয়ে নানা ধরেনর চিন্তা ভাবনা করছেন তেমনি প্রার্থীরাও বসে নেই। একদিন পর ভোট। প্রচার-প্রচারণার একেবারে শেষ মুহুর্ত। মধ্যরাত থেকে সকল প্রকার প্রচারণা শেষ। তাই শেষ বেলায় এসেও বসে নেই প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে উঠান বৈঠক, কর্মী সভাসহ দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে চরের রাস্তা ঘাট, বাল্যবিয়ে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের।
এওজবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুজ জাহের জাগো নিউজকে জানান, তিনি আগেও বেশ কয়েকবার এ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসিবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যদি এবার নির্বাচিত হন, তাহলে এলাকার শিক্ষা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানসহ ইউনিয়ন থেকে সকল প্রকার মাদক ও সন্ত্রাস দূর করবেন।
তবে একই ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান অভিযোগ করে জানান, তিনি প্রায় বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা করতে পারছেন না। তার মাইক ও অফিস ভাঙচুর করে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শণ করছে কতিপয় চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসরিা। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর পরও কোনো ফল পাননি।
অপরদিকে নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে শুরু থেকেই উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়ন ছিলো সকলের আলোচনায়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত চেয়ারম প্রার্থী আলী হায়দার বকশী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খুরশিদ আলমের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে।
ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খুরশিদ আলম মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নামলেও পরে আওয়ামী লীগের জেলা নেতৃবৃন্দের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তার কর্মী-সমর্থকরা তা মেনে নিতে পারেনি। তারা বিক্ষুদ্ধ হয়ে খুরশিদ আলমের বাড়ি ঘরে আগুন দেয়।
খুরশিদ আলম জাগো নিউজকে জানান, দলীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তুু এলাকার মানুষ তাকে যে এতো ভালোবাসেন তা তিনি আগে বোঝেননি। তাই এলাকার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি আবার ভোট করার সিদ্ধান্ত নেন।
এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যার প্রার্থী বয়সে অনেকটা প্রবীন। তবে তিনি জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। তিনি শতভাগ আশাবাদী নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি ভোটে জয়লাভ করবেন।
সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সাইফুল আলম জাগো নিউজকে জানান, ১০৮টি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ৪৬৯ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯ হাজার ৮৭৫ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪ হাজার ৮১৫ জন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৮ জন এবং সংরক্ষিত পদে ১০২ ও সাধারণ পদে ৫৬৭ জন।
তিনি আরো জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
মিজানুর রহমান/এফএ/আরআইপি