ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাজেট মানেই ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষি

প্রকাশিত: ০৭:৫৫ এএম, ০৩ জুন ২০১৬

বাজেটে এই পণ্যের দাম বেড়েছে, না আপনি দাম বেশি নিচ্ছেন এমন বাকবিতণ্ড আর দরকষাকষি করতে হয় ক্রেতা-বিক্রেতাকে। আবার ভ্যাট বৃদ্ধি পেলে পণ্যের দাম একটু বেশি নিয়ে বিক্রি না করলে ব্যবসায়ীদের চলে না। বাজেটের পরে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাদের মত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। এমন কথায় বললেন, ফরিদপুর শহরের থানা রোডের কোকারিজ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম সুমন।

তিনি বললেন, রাইচ কুকার, ইলেক্ট্রিক চুলা, ওভেন, ব্লিন্ডার মেশিনসহ বিভিন্ন জিনিস এতো দিন যে দামে বিক্রি করেছি, বাজেটের পরে কোম্পানীর কাছ থেকে বেশি দামে কিনে আমাদের বিক্রি করতে হবে। দোকানের ট্যাক্স বৃদ্ধি হয়েছে, বিদ্যুৎ বিল বেড়ে গিয়েছে আবার এবছর বাজেটে ভ্যাট বৃদ্ধি হলে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হবে। দোকান ভাড়া, কর্মচারির বেতন ও কোম্পানির টাকা পরিশোধ করে মাস শেষে কিছু থাকবে কিনা এই নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি।

সিরাজ ইলেক্ট্রনিক্স এর মালিক সিরাজুল ইসলাম জানান, আমরা ব্যবসা করি নিম্নবৃত্ত ও নিম্ন মধ্যবৃত্ত শ্রেণির লোকজনের সঙ্গে। প্রতিটি ফ্রিজে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। যে লোকটির কাছে গত মাসেও একটি ফ্রিজ বিক্রি করেছি যে দামে। আগামী মাসে তার পাশের বাড়ির লোকটির কাছে এত ব্যবধানে কিভাবে পণ্য বিক্রি করব? আমরা কাস্টমার হারাবো।

আগে প্যাকেজ ও থোক বরাদ্দ পদ্ধতিতে সরকারকে ভ্যাট দিতে হতো। ২০১২ সালের ভ্যাট বা মূসক আইনে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে গেলে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বলেও জানান এই ব্যবসায়ী।
 
শহরের অনেক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে যারা দোকানের হিসাব-নিকাশের জন্য খাতা কলম ব্যবহার করে না। তাদের উপর নতুন নিয়মে ভ্যাট কার্যকরের ক্ষেত্রে অর্থ আদায় করা কষ্টকর হবে। এই জন্য প্যাকেজ বা থোক বরাদ্দ পদ্ধতিতে ভ্যাট দেওয়ার ব্যবস্থার দাবি ব্যবসায়ীদের।

শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য উৎপাদন করে বা আমদানি করে বাজারজাত করার জন্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের উপর নির্ভর করতে হয় কোম্পানিগুলোকে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তরা হলেন পণ্যের গেটওয়ে বা সংযোগ মাধ্যম। ছোট ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের টাকা বড় বড় আমদানিকারকদের ও কোম্পানির কাছে পৌঁছে দেয় মাত্র। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লাভ থাকে খুব সীমিত। তাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ট্যাক্স ও ভ্যাটের বিষয়ে যেন সরকার বিবেচনা করে বাজেট দেয় তারও দাবি মফস্বলের ব্যবসায়ীদের।
 
অপরদিকে দেশের উৎপাদিত পণ্য ও আমদানি পণ্যের প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয় বেশি। তাই সাধারণ জনগণ পণ্যের ভ্যাট পরিশোধ করলেও ধনী ও বিত্তশালী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানসমূহ সঠিকভাবে ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর না দিয়ে লাভবান হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো জন্য বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যথাযথ রাজস্ব আদায়ে গুরুত্ব দিতে বলেছেন ফরিদপুর চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
 
প্রতিবছরেই বাজেটের আগে ও পরে  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই বাজেট হোক সকলের আশাব্যঞ্জক বলে দাবী ব্যবসায়ী সমাজের।

তরুন/এফএ/এমএস