ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কোটালীপাড়ায় কাবিখা প্রকল্পে পুকুর চুরির অভিযোগ

প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ০৮ জুন ২০১৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা)
প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কিছু প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা চারশত মেট্রিকটন খাদ্য শষ্য হাতিয়ে নিয়েছেন। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উঠেছে পুকুর চুরির অভিযোগ।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে কোটালীপাড়ায় কাবিখা প্রকল্পে চার শত মেট্রিকটন খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দেয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে বরাদ্দকৃত খাদ্য শষ্যের অনুকূলে ৪১টি প্রকল্প দাখিল করা হয়। দুই একটি প্রকল্প ছাড়া অধিকাংশ প্রকল্প ভুয়া। কোনো প্রকল্পেই তেমন কোনো কাজ হয়নি।

জানা গেছে, বিষ্ণুপুর জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট ও কুমারকান্দি শিতলা মন্দিরে, কান্দি বাড়ি আশ্রমে সোলার প্যানেল স্থাপন প্রকল্পের অনুকূলে ৯ মেট্রিকটন খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পটির অনুকূলে বরাদ্দকৃত খাদ্য শষ্যের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি উত্তোলন করেছেন প্রকল্প কমিটির (সিপিসি) সভাপতি ও কলাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি চারু চন্দ্র গাইন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কাজ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে কলাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি চারু চন্দ্র গাইন জানান, বরাদ্দকৃত খাদ্য শষ্যের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির চাল বিক্রি করে টাকা আমার কাছে রেখেছি। এই টাকা দিয়ে আগামীতে বিদ্যালয়টির উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হবে।

উনশিয়া প্রস্তাবিত ভূমি অফিসের নিচু জায়গা মাটি ভরাট এবং চিত্রপাড়া রাশিদা ও সাইফুলের বাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপনের অনুকূলে ৯ মেট্রিকটন খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের দুই কিস্তি খাদ্য শষ্য উত্তোলন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে প্রকল্পটির সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

অন্যদিকে, হাসুয়া চুন্নু গাজীর বাড়ি থেকে বান্ধাবাড়ী-নারিকেলবাড়ী সড়ক পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ এবং সবুজ গোলদারের বাড়িতে ও হান্নান কাজীর বাড়ীতে সোলার প্যানেল স্থাপনের অনুকুলে ৮ মেট্রিকটন খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এ প্রকল্পেও এখন পর্যন্ত কোন কাজ করা হয়নি। এই প্রকল্পের সিপিসি ইনুচ পাইকে পাওয়া যায়নি। তবে বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত গোলদার বলেন, আমরা কাজ করে ছিলাম কিন্তু বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা সবাই মিলে প্রকল্প দিয়েছি। তবে কেউ বরাদ্দ নিয়ে কাজ করেছে কিনা তা আমার জানা নেই।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী আব্দুল আজিজ বলেন, প্রকল্প দিয়ে চাল-গম নিয়ে যদি কোনো সিপিসি কাজ না করে থাকে তা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এস এম হুমায়ূন কবীর/এআরএ/এমএস