ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পেকুয়ায় আবারো অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি

প্রকাশিত: ০২:১৫ পিএম, ০৮ জুন ২০১৬

দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়ছে না কক্সবাজারের পেকুয়ার উপকূলীয় মগনামা ইউনিয়নবাসীর। অমাবস্যার প্রভাবে সাগরে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা আবারো প্লাবিত হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি রয়েছে ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ইউনিয়নের পাঁচটি ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে চরম মানবিক বিপর্যয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে গত ৬ জুন দুপুরে মগনামা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করা হয়েছে। পাউবোর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা থেকে মগনামা পরিদর্শনে এসেছে।

পাউবোর আঞ্চলিক প্রধান (দক্ষিণ) আনোয়ার সাদাতের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল মগনামা ইউনিয়নের কুতুবদিয়া চ্যানেল সংশ্লিষ্ট পশ্চিমের বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান জানান, বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কারের জন্য সার্ভে করা হয়েছে। বাঁধ সংস্কারের জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। গত এক সপ্তাহ আগে থেকে মগনামা ইউনিয়নের ২০টির অধিক গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। আর ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে মগনামা ইউনিয়নে পাউবো নিয়ন্ত্রিত ছয় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে।

Flood

ওই অংশ দিয়ে সাগরের জোয়ারের পানি সরাসরি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে ওই ইউনিয়নের বিপুল এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। অধিকাংশ বাড়ি-ঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট পানির নিচে থাকায় বন্ধ রয়েছে এসব এলাকার যাতায়াত। পানিবন্দি মানুষ নৌকা নিয়ে চলাচল করছে।

মগনামা ইউনিয়নের ৫টি ওয়ার্ডে এক সপ্তাহ ধরে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাড়ি-ঘর লোনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঘরে চুলায় আগুন জ্বলছে না। নলকূপ পানির নিচে ডুবে রয়েছে। ক্ষুধার্ত মানুষ ও পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রচণ্ড লবণাক্ততার কারণে এ ইউনিয়নের বিপুল অংশে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমন কোনো পুকুর নেই যেখানে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়েনি। পয়নিষ্কাশন ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে গৃহস্থলীর কাজে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

Flood

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কুতুবদিয়া চ্যানেল সংশ্লিষ্ট পাউবোর বেড়িবাঁধ বিলীন হয়।
শরতঘোনা জাবের আহমদের বাড়ি থেকে হুমায়ন কবিরের প্রজেক্ট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ জোয়ারের পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হয়। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। কাকপাড়া অংশের একাধিক পয়েন্টে বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছে। বর্তমানে মগনামার অন্তত ২০টির অধিক গ্রামে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা চলছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৫টি ওয়ার্ডে পুরো পানিতে ডুবে আছে। বাজারপাড়া, শরতঘোনা, পশ্চিম বাজারপাড়া, হারঘরপাড়া, হারুন মাতবরপাড়া, লালমিয়াপাড়া, দরদরিঘোনা, মটকাভাঙ্গা, চেরাংঘোনা, কালারপাড়া, শুদ্ধখালী পাড়া, ডলিন্যাপাড়া ও কাকপাড়ায় সড়কের উপরে প্রায় ২-৩ ফুট পানি চলাচল করছে। দুপুরের জোয়ারের পানিতে এসব এলাকা সয়লাব হয়েছে।

Flood

পেকুয়ার ইউএনও মো. মারুফুর রশিদ খান জানান, মগনামার সমসাময়িক অবস্থা অত্যন্ত করুণ। বেড়িবাঁধের কারণে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। পাউবোর সঙ্গে কথা হয়েছে তারা প্রাথমিকভাবে দ্রুত পানি নিয়ন্ত্রণের কাজ করবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু জানান, মগনামার অবস্থা খুবই বিপর্যস্ত। মানুষ বাঁচাতে হলে বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার করতে হবে। জোয়ার-ভাটা চলছে মগনামায়। মনে হয় এটি মগনামাবাসীর জন্য বড় ধরনের অভিশাপ।  

সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/এমএস