নৌকায় ভোট দেয়ায় পাঁচ পরিবার একঘরে
নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পাঁচ পরিবারকে সামাজিকভাবে বন্ধ (একঘরে) দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল্লাহ হেল শাফির (আনারস) বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের বন্দ্য কাওয়ালজানী গ্রামে।
উয়ার্শী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মল্লিক সামাজিকভাবে বন্ধ দেয়ার প্রতিবাদে ওই পাঁচ পরিবারের সদস্যসহ এলাকার লোকজন নিয়ে শুক্রবার সকালে মির্জাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গত ২৮ মে পঞ্চম ধাপে মির্জাপুর উপজেলারে আটটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ হেল শাফি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে উয়ার্শী ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে উপজেলা আওয়ামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকেই আব্দুল্লাহ হেল শাফি উয়ার্শী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ভোটারদের নৌকা প্রতীকে ভোট না দিতে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়।
নির্বাচনে আব্দুল্লাহ হেল শাফি হেরে যাওয়ার পর তিনি ও তার বাহমভুক্ত আজিজ মিয়া, মাওলানা কাইয়ুম, ওমর আলীসহ তার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৫ জুন মসজিদ উন্নয়নের কথা বলে বাদ মাগরিব বন্দ্য কাওয়ালজানি মসজিদে সভা ডাকেন।
সভায় গ্রামের জহিরুল ইসলাম, দারগ আরী, আলমগীর হোসেন, আফজাল হোসেন, সেলিম মিয়া, শহিদুর রহমান, শফিকুল ইসলামকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার অপরাধে সামাজিকভাবে বন্ধ (একঘরে) দেন। এ ঘটনার পর থেকে ওই ৫ পরিবার ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড করতে পারছেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। এছাড়া ওই ইউনিয়নের অনেক ভোটার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে উয়ার্শী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মির্জাপুর প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. মোশারফ হোসেন মনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল, উয়ার্মী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক মুরাদ হোসেন সহ ওই ইউনিয়নের অর্ধ-শতাধিক নেতাকর্মী ও ভোটার উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বন্দ্য কাওয়ালজালী গ্রামের ভোটার হায়দার আলী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আবুল হোসেন নামে আব্দুল্লাহ হেল শাফির লোক ভোট হওয়ার পর থেকে হুমকি-ধমকি ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
আরিফ উর রহমান টগর/এআরএ/এমএস