ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভারি বর্ষণে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত: ১২:১৬ পিএম, ১৩ জুন ২০১৬

ভারি বর্ষণে কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ফুলেশ্বরী নদীতে নেমেছে পাহাড়ি ঢল। অকস্মাৎ নদীতে বেড়ে যাওয়া পানি ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহের শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে থেমে থেমে এ বর্ষণ শুরু হয়েছে।

গত বর্ষায় ভেঙে যাওয়া সড়ক ও বাঁধ মেরামত না করায় তলিয়ে যাচ্ছে সমতল এলাকা। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়ক যোগাযোগ। পানিতে প্লাবিত হচ্ছে ঈদগাঁও বাজার ও এর আশপাশ। পানি ভাসিয়ে নিয়েছে বাঁশঘাটার সেতুর অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোও।  

রমজানের শুরু থেকে আকাশ বিরুপ আচরণ শুরু করে। টানা ১৬ ঘণ্টার রোজাতে বৃষ্টির কারণে স্বস্তি আসলেও বাড়িয়ে দিয়ে নদীর পানি। পাহাড়ি ঢল ভাঙা বাঁধ পেরিয়ে দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করছে। ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভোমরিয়া ঘোনা মাদরাসা এলাকায় গত বছরের ভাঙন দিয়ে ঢলের পানি যাতায়ত করায় ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী-আলীকদম-গর্জনিয়াসহ পাঁচ ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

পাহাড়ি এলাকার মানুষ জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ। লাইন সমস্যার কথা বলে গত দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগও রয়েছে বিচ্ছিন্ন। ফলে ধানের কলসহ বিদ্যুৎ নির্ভর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুতের পাশাাপাশি আরেক ভোগান্তি যোগ হয়েছে সড়কের ভাঙন এলাকায় তৈরি সাঁকোর টোল। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত রোজাদারদের সুবিধার্থে পানি মাড়িয়ে ভাঙন পার করে হলেও নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল আনা হচ্ছে। কিন্তু সড়কের ভাঙন এলাকায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করা লোকজন ব্যক্তি ও মালামাল পার করাতে অনৈতিক ভাবে টাকা আদায় করছে। আবার সড়ক ভাগ করে আসতে হচ্ছে বিধায় গাড়ি ভাড়াও পড়ছে বেশি।
 
Eidgaon

ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদগাঁও-চকরিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা হতে সংগ্রহ করা কাঁচামাল বাইশারী বাজারে নিয়ে খরচ বাধ দিয়ে কেজি প্রতি ১-২ টাকা লাভে বিক্রি করা হয়। সড়ক ভাঙনের আগে ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় বাজারে আনতে বস্তা প্রতি ভাড়া দিতে হত ২০ টাকা। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বস্তা প্রতি লেবার ও গাড়িভাড়া দিতে হচ্ছে ১৫০ টাকার বেশি। তাই এসব বাড়তি টাকা মালের সঙ্গে যোগ করে তুলতে হচ্ছে ক্রেতাদের কাছ হতে।  

একাদিক যাত্রী জানান, ঈদগড় থেকে ঈদগাঁও যেতে গাড়িভাড়া জনপ্রতি মাত্র ২০টাকা। কিন্তু সড়ক বিছিন্ন হওয়ার পর ভাঙন পার হয়ে খণ্ড খণ্ড ভাবে ঈদগড়-ঈদগাঁও যেতে গাড়ি ভাড়া গুণতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ৭ কিলোমিটার রাস্তার গাড়ির সঙ্গে পাঁয়ে হাঁটতে হচ্ছে প্রায় দুই কিলোমিটার।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রতিবছর সড়কের ভোমরিয়াঘোনা এলাকার বটতল এলাকাটি বর্ষাকাল আসলে ভেঙে যায়, দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ লোকজনকে। এ ভাঙনকে কেন্দ্র করে সাঁকো তৈরি করে সেবার নামে কিছু লোক পথচারীদের কাছ হতে নিয়মের বহুগুণ টাকা আদায় করেন। এছাড়া বর্তমানে সড়কের এমন নাজুক অবস্থা যে, ঈদগড় থেকে ঈদগাঁও যেতে ২০-২৫ মিনিটের পথ যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগছে।

অপরদিকে, থেমে থেমে বর্ষণ বৃহত্তর ঈদগাঁওর জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমতলেও পানি জমায় জন ও যান চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জেলা দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারের প্রধান সড়কটি বৃষ্টির পানিতে একাকার হওয়ায় গাড়ি দূরে থাক পায়ে হাঁটাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। ডিসি সড়ক জুড়েই ছেয়ে গেছে খানা খন্দকে। গা চম চম করছে ময়লা আবর্জনায়। বহুমুখী সমস্যা পার করছে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণ।

ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারে নির্মিত ড্রেনটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি চলাচল করতে পারছে না। ডিসি রোডের ওয়ালটনের সামনে হয়ে আসা ড্রেনটির কোনো চিহ্ন নেই। বায়তুশ শরফ রোডের ড্রেনটি ময়লা আবর্জনার ডিপোতে পরিণত হয়েছে। ফলে এসব ড্রেন দিয়ে বৃষ্টির পানি চলাচল করতে না পারায় রাস্তায় পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে ময়লা আবর্জনার। এসব দেখার যেন কেউ নেই।

ঈদগাঁও ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম বলেন, শপথ নেয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করে বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন ও ভাঙচুর মেরামতে গুরুত্বারোপ করা হবে। এলাকার সব শ্রেণির মানুষের সহযোগিতায় ঈদগাঁওর বাণিজ্যিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে আধুনিক ইউনিয়ন করা হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/পিআর