সেবক হত্যার ঘটনায় গালকাটা হাশেম গ্রেফতার
নিত্যরঞ্জন পান্ডে
পাবনার হেমায়েতপুরে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আবুল হাশেম ওরফে `গালকাটা হাশেম` (৪৩) নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার ভোরে হেমায়েতপুরের অনুকূল চন্দ্র আশ্রম এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি এলাকার মৃত ফকির সেখের ছেলে।
পরে বিকালে গ্রেফতারকৃত হাশেমকে পাবনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে বিচারক নাজিম উদ্দৌলা পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পাবনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) এবং নিত্যরঞ্জন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুন্সী আবদুল কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সূত্রের মাধ্যমে ভোরে তাকে হেমায়েতপুর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, হাশেম একজন পেশাদার সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে পাবনাসহ বিভিন্ন থানায় ৩০টির মত মামলা রয়েছে। নিত্যরঞ্জন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সে জড়িত কিনা তা নিশ্চিত হতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ দরকার।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সম্পূর্ণ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে হাশেমকে আটক করেছে পুলিশ।
এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হলো। এর আগে শনিবার রাত ১১টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার বাজিতপুর ঘাট এলাকার এক বাড়ি থেকে আরিফুল ইসলাম নামে এক শিবির নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
আরিফুল পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগে মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র এবং শিবিরের পাবনা পৌর পশ্চিম এলাকার সেক্রেটারি। তিনি পাবনা সদর উপজেলার চরঘোষপুরের আবুল কাশেমের ছেলে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডেকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওইদিন রাত ১০টার দিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে এ হত্যাকাণ্ডে এখনো কোনো ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের একদিন পর শনিবার আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের ওয়েবসাইট।
একে জামান/এআরএ/এমএস