ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কক্সবাজারে সালিশি বৈঠকে গুলি : প্রবাসী নিহত

প্রকাশিত: ০৬:৩১ এএম, ১৫ জুন ২০১৬

কক্সবাজার সদরে এক সালিশি বৈঠকে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়েছে। এতে ঘটনাস্থলে সদ্য প্রবাস ফেরত আবছার কামাল নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বিচারকসহ আরো অন্তত ১০ জন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে সদর উপজেলার ইসলামাবাদ শাহ ফকির বাজার এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

নিহত আবছার সদরের উপকূলীয় ভারুয়াখালীর হাজিপাড়ার নজির আহমদের ছেলে। কয়েক মাস আগে শাহ ফকির বাজার এলাকায় জমি কিনে সেখানে স্থায়ী হয়েছেন তিনি এবং সপ্তাহখানেক আগে প্রবাস থেকে তিনি দেশে আসেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ইসলামাবাদ ইউনিয়নের এক ছেলে ও ইসলামপুর ইউনিয়নের এক মেয়ের সাংসারিক কলহ নিয়ে শাহ ফকির বাজার কমিটির অফিসে রাত ১১টার দিকে সালিশ বসে। ছেলে পক্ষে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত মেম্বার আবদু শুক্কুর ও বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল আকাশ এবং মেয়ে পক্ষে প্রতিনিধি ছিলেন ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত মেম্বার শাহাবউদ্দিন ও বাজার কমিটির সহ-সভাপতি শ্রমিকলীগ নেতা ওবাইদুর।

এসময় তাদের সঙ্গে দুই পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও বাজার ব্যবসায়ীসহ অন্তত ২৫-৩০ জন উপস্থিত ছিলেন। দু্ই পক্ষ কথা বলছিলেন। হঠাৎ রাত পৌনে ১২টার দিকে মুখোশপরা ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত সালিশ কার্যালয়ে ঢুকে বাজার সভাপতি আবদুল্লাহ আল আকাশ ও তার পাশের চেয়ারে বসা আবছারকে লক্ষ্য করে এবং এলোপাতারি কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়।

এতে আবদুল্লাহ ও প্রবাস ফেরত আবছার কামাল গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে রাত ১ টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আবছারকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এদিকে আবদুল্লাহ আল আকাশকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। বাকি গুলিবিদ্ধরা যার যার মতো চিকিৎসা নিয়েছেন।

তবে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, দুর্বৃত্তরা আবদুল্লাহ ও ওবাইদুরকে আক্রমণ করতে এসেছিলেন। হামলাকারিদের গুলির টার্গেট দেখে এমনটি ধারণা করছেন তারা। অফিসে ঢুকে সামনের লোকজনকে পিছনে ফেলে শুধু দু`টি চেয়ারে বসা লোককে গুলি করে তারা। যাওয়ার সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে অন্যদের পায়ের দিকে গুলি করে স্থান ত্যাগ করে।
 
সূত্রটি আরো জানায়, হামলার মাত্র ৫ মিনিট আগে ওবাইদুরের মোবাইলে একিট কল আসলে তিনি তার চেয়ারে প্রবাসী আবছারকে বসিয়ে বাইরে বের হন। এতে মিশন ফেল হয় হামলাকারীদের। মাস ছয়েক আগে এক ডাকাতকে আটক করে তার হাতের আঙ্গুল কেটে নেয়ার ঘটনায় আবদুল্লাহ আল আকাশ ও ওবায়দুরের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। এ কারণে তারা দুর্বৃত্ত চক্রের টার্গেটে ছিল বলে দাবী করা হচ্ছে।
 
কক্সবাজার সদর  থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন ঘটনা শুনেছেন দাবি করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ  পাঠানো হয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/আরআইপি