ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নন্দীগ্রামে গণধর্ষণের দায়ে চারজনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ১১:৩৫ এএম, ১৯ জুন ২০১৬

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ননদ ও ভাবিকে গণধর্ষণের দায়ে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রোববার বিকেলে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আব্দুল মান্নান আসামিদের উপস্থিতি এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলার নামুইট গ্রামের মৃত ওসমান আলী মন্ডলের ছেলে সোলায়মান আলী মন্ডল, একই গ্রামের মৃত ছহির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মহির উদ্দিন মন্ডল, মৃত আজিমুদ্দিনের ছেলে আয়নাল হক এবং গেদা প্রামাণিকের ছেলে মোজাহার আলী মোজা।

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের অপহরণের দায়ে ১৪ বছর এবং গণধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের এক লাখ ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাভোগ করতে হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামি সোলায়মান আলী মন্ডল একই গ্রামের দিন মজুরের সুন্দরী স্ত্রীকে সুযোগ পেলেই কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি ওই নারী তার স্বামীকে জানালে সোলায়মান আলী ক্ষুদ্ধ হয় এবং এরপর থেকেই সুযোগ খুঁজতে থাকে। ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে ওই নারী তার বাড়িতে বেড়াতে আসা ভাবিকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাহিরে বের হয়। এসময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আসামিরা ননদ-ভাবিকে জোরপূর্বক সেখান থেকে অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী সিন্দাপুর গ্রামে নিয়ে যায়।

এরপর সেখানে রাতভর পালাক্রমে ননদ-ভাবিকে গণধর্ষণ করে সাজাপ্রাপ্ত চার আসামি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এ ঘটনার পর ধর্ষিতাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং থানায় মামলা করা থেকে বিরত রাখা হয়। পরে পুলিশের উদ্যোগে ঘটনার সাতদিন পর ৬ নভেম্বর ধর্ষিতা এক নারী বাদী হয়ে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের গ্রেফতার করে এবং তদন্ত শেষে ২০০২ সালে ৩ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর দীর্ঘ শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালন করেন বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পিপি অ্যাড. নরেশ মুখার্জী এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাড. লুৎফর রহমান ও কায়সারুজ্জামান।

এআরএ/পিআর