ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাড়া ফেলেছে রবিনের তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

প্রকাশিত: ০৩:৪৭ এএম, ২৩ জুন ২০১৬

তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। মানুষের কাছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার তরুণ প্রযুক্তিবিদ রবিন ব্যক্তিগত উদ্যোগে আবিষ্কার করেছেন তারবিহীন উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। তার এ প্রযুক্তি এরই মধ্যে এলাকায় সাড়া ফেলেছে।

গত ৭ জুন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তার নিজ বাসায় ডেকে নেন তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের আবিষ্কারক কিশোরগঞ্জের রবিনকে। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মন্ত্রী। দিয়েছেন প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা সদরের মো. রফিক উদ্দিনের ছেলে ফজলে রাব্বি রবিন। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিতেন আশপাশের লোকজনকে। সুবিশাল এলাকাজুড়ে তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিয়ে  আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি।kishoreganj

রবিনের আবিষ্কৃত তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন জেলার কুলিয়ারচর, ভৈরব, বাজিতপুর ও কটিয়াদী উপজেলার প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকার অনেকেই।

গত ১ জুন থেকে বাণিজ্যিকভাবে কিশোরগঞ্জের ৪ উপজেলায় তারবিহীন উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিতে শুরু করেন তিনি।

জানা গেছে, ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স শেষ করে রবিন পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব বালারাত থেকে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে ৩ বছরের কোর্স শেষ করে বাংলাদেশ আসেন। সরকারি চাকরির কথা চিন্তা না করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। আর নিজের শিক্ষালব্ধ জ্ঞান দিয়ে ব্যবসার পাশাপাশি মানবসেবার কাজ শুরু করেন নিজের এলাকা থেকে।

দেশে ফিরে তিনি কুলিয়ারচরে প্রথমে অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে অ্যান্টেনা তৈরি করে থ্রিজি নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থাপন করেন। এর ফলে মডেমের মাধ্যমে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করা যেত। এরপর রবিন অ্যান্টেনার আরো উন্নত ধাপের পরিকল্পনা মাথায় রেখে নিজ খরচে ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে এলাকায় সুউচ্চ একটি টাওয়ার বসান।

ওই টাওয়ারের মাধ্যমে ৪ উপজেলায় তারহীন ইন্টারনেট সেবা শুরু করেন। রবিনের এ আবিষ্কারের কথা কুলিয়ারচর উপজেলাসহ আশেপাশের ৩ উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকে তার ব্রডব্যান্ড সংযোগ।

ফজলে রাব্বি রবিন জানান, তার তৈরি টাওয়ার থেকে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া যাবে আশপাশের ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। এজন্য ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একটি ইউবিএনটি মডেম লাগবে। তিনি বিটিসিএল থেকে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিটিআরসি থেকে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) লাইসেন্স নিয়েছেন।

রবিন বলেন, আমাদের উপজেলায় বিদ্যুতের সমস্যা প্রকট। তবে বিদ্যুৎ না থাকলেও তার ব্রডব্যান্ড ইন্টারেট টাওয়ারের জন্য ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার পাওয়ার ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে সরকারি সহযোগিতা পেলে কুলিয়ারচর ছাড়াও আশপাশের ৪টি উপজেলায় নির্বিঘ্নে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সেবা দিতে পারবেন বলে জানান রবিন।

নূর মোহাম্মদ/এসএস/এবিএস

আরও পড়ুন