ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

প্রকাশিত: ০৪:৪৮ এএম, ২৮ জুন ২০১৬

আউশ ধান চাষের সময় বৃষ্টি না হওয়ায় নওগাঁয় ধান উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির অভাবে জেলার কৃষকরা জমি চাষ করতে না পারায় অনেক কৃষক এ ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

এদিকে, অতিরিক্ত সেচ দেয়ার ফলে বাড়তি খরচ হচ্ছে বলে জানা গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১১টি উপজেলায় চলতি বর্ষা মৌসুমে ৫৯ হাজার ১৩৮ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে এখন (গতকাল সোমবার) পর্যন্ত ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধান লাগানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে জেলায় হাতে গোনা কৃষক ডোবা, পুকুর, নদী থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি তুলে জমি তৈরি করছেন। তবে সাপাহার, পোরশা, মহাদেবপুর, ধামইরহাট, পত্নীতলা, নওগাঁ সদরসহ ১১টি উপজেলায় অনাবৃষ্টির কারণে জেলার অনেক কৃষকই আউশ ধান লাগাতে পারেনি।

মহাদেবপুর উপজেলার ভীরপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর যেখানে প্রতি বিঘা ধান চাষে খরচ হতো ৭ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা সেখানে এ বছর শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিয়ে ধান লাগানো হয়েছে। লাগানোর পর অনাবৃষ্টির কারণে জমি শুকিয়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিন সেচ দিতে হচ্ছে। যার কারণে দিনদিন উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে প্রতি বিঘায় এক হাজার টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। ধান উৎপাদন শেষে তাদের লাভ হবে না বলে জানান কৃষকরা।

মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রামের আব্দুর রশীদ জানান, ধান চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ সার, কিটনাশক বাজারে সরবরাহ থাকলেও পানির অভাবে কৃষকদের এখনও জমি চাষ করা সম্ভব হয়নি। আবার অনেক কৃষক শুকনো জমিতে ধান চারা লাগিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, আগামী ৮/১০ দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে তাদের লাগানো ধান চারা মরে যাবে।

নওহাটা বাজার এলাকার জিএম মিঠুন জানান, ধান উৎপাদন শেষে নায্য মূল্য ও অতিরিক্ত খরচের টাকা পাবে নাকি সে চিন্তাতেও রয়েছেন।

সদর উপজেলার কুমরিয়া গ্রামের আব্দুস ছাত্তার জানান, গত বছর মাঝে মধ্যেই বৃষ্টি হওয়ায় আশেপাশের মাঠগুলোতে আউশ ধান লাগানো প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এ বছর অধিকাংশ জমি চাষ করা সম্ভব হয়নি। কবে বৃষ্টি হবে আর কবে ধান লাগানো সম্ভব হবে তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তাই রয়েছেন কৃষকরা।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সত্যব্রত সাহা জানান, এখন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত না হলেও ইতোমধ্যে ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধান লাগানো হয়েছে। আগামী আরো ১৫ দিন পর্যন্ত ধান লাগানো যাবে। জেলায় আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ধান লাগানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

আব্বাস আলী/এসএস/পিআর

আরও পড়ুন