ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

যশোরে ঈদবাজার জমজমাট

প্রকাশিত: ১১:০৪ এএম, ২৮ জুন ২০১৬

যশোরে জমজমাট হয়ে উঠেছে ঈদ বাজার। পুরোদমে চলছে ঈদ উপলক্ষে বাহারি পোশাকের কেনাকাটা। ক্রেতারা ঝুঁকছেন শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিচ, পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট, জামা, ছোটদের পোশাকের দিকে। দোকানগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যাপক ভিড় থাকছে। ঈদের দিন যত কাছে আসছে, ঈদ বাজারে বেচাকেনা আরো বাড়ছে।

যশোর শহরের বিপণি বিতানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শহরের মুজিব সড়ক, এইচএমএম আলী রোড, জেস টাওয়ার, সিটি প্লাজা, কালেক্টরেট মার্কেট, কাপুড়িয়া পট্টিসহ বিপনি বিতানগুলোতে জমে উঠেছে। দর্জি বাড়িতেও চলছে পুরোদমে ঈদের কাজ। যথা সময়ে পোশাকের ডেলিভারি দেয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন টেইলার্স মালিকরা। সব মিলেয়ে সরগরম যশোরের ঈদ বাজার।

ঈদে ছেলেদের পছন্দের শীর্ষে থাকে পাঞ্জাবি। এবারো তার ব্যত্যয় ঘটেনি। নানা ডিজাইনের, নানা ফ্যাশনের পাঞ্জাবি ক্রয় করছেন ক্রেতারা। এবারের ঈদে লং, সেমি লং, ন্যারো ও শর্ট পাঞ্জাবির কদর বেশি। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও কিনছেন পাঞ্জাবি।

বিক্রেতারা জানান, রাজশাহী সিল্ক, এন্ডি কটন (খদ্দর), ব্লক, সুতি ও তোষরের কাপড়ের পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি।

এম এম কলেজের ছাত্র সোহেল রানা জানান, ঈদে পাঞ্জাবি ছাড়া কিছু কল্পনা করাই যায় না। গরমের এবার হালকা পাঞ্জাবি অগ্রাধিকার দিচ্ছি। একই কলেজের ছাত্র শরিফুল ইসলাম বলেন, পাঞ্জাবি বেশ রুচিশীল পোশাক। সুতির হালকা কাজের পাঞ্জাবি স্মার্টনেস বাড়ায়। আবার গরমে পাঞ্জাবি আরামদায়কও বটে।

যশোর শহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাঞ্জাবির মানভেদে দামেও তারতম্য রয়েছে। সুতি হাতের কাজের পাঞ্জাবি ৮৫০ থেকে ১০৮০ টাকা, রাজশাহী সিল্ক ১২৬০ থেকে ৩২৬০টাকা, খদ্দর ১৫০০ থেকে ২১০০ টাকা, আদ্দি ৩০০০ থেকে  ৩২০০টাকা, তোষর ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

কালেক্টরেট মার্কেটের পাঞ্জাবি হাউসের স্বত্ত্বাধিকারী আতাউর রহমান জানান, রোজার আগে থেকেই পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বড়রাও কিনছেন পাঞ্জাবি। কাপড়ের সাইজ ও মানভেদে দামেও পার্থক্য আছে।

ঈদের কেনাকাটায় পরিবারের ছোটদের অগ্রাধিকার দওয়া হয়। বাচ্চাদের কেনাকাটার পর অন্যদের বিষয়টি মাথায় নেয়া হয়। যশোরের ঈদ বাজারে বাচ্চাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র টম অ্যান্ড জেরি, ডোরেমন ও মোটুপাতলু কালেকশন।

শিশুদের সিম্পল টি-শার্ট ১৫০ টাকা থেকে শুরু। আর প্যান্ট গেঞ্জি সেট ৩৫০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত। ছেলে শিশুদের জিন্স প্যান্ট ৩০০ থেকে ১০০০টাকা, থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, এছাড়াও ফুলপ্যান্ট, হাফ শার্ট ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। হাতের কাজ ও অ্যাম্বডারির পাঞ্জাবি ৩০০ থেকে ১২০০টাকা, কেটি ৩৫০ থেকে ১৫০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ডিজাইনের ফ্রকর দাম ৮০০ থেকে ২০০০টাকা পর্যন্ত।

Jessore-eid-bazar

মুজিব সড়কের রঙ ফ্যাশনে আফরিনা পারভীন নামে এক অভিভাবক জানান, ফ্লোর টাচ ফ্রক কিনবো বলে ঘুরছি। ফ্লোর টাচের পাশাপাশি জিন্স ও টি-শার্ট কিনবো বাচ্চার জন্য।

চরকা ফ্যাশনের বিক্রয় সহকারী আফসানা নাহিদ জানান, ফ্লোর টাচ পোশাকের চাহিদা বেশি। ক্রেতা দিন দিন বাড়ছে। সব বয়সীদের জন্য পোশাকের সরবরাহ রয়েছে।

যশোর কালেক্টরেট মার্কেটের ইসলাম ব্রাদার্সের বিক্রয় কর্মী মোহাম্মদ কিবরিয়া জানান, রোজার শুরুতেই শিশুদের পোশাক বিক্রি বেড়েছে।

ঈদ বাজারে নারী ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে হরেক রকমের শাড়ি ও লেহেঙ্গা। শহর ঘুরে পছন্দের পোশাক কিনতে ঘুরছেন ক্রেতারা। জর্জেট, ধুপিয়ান সিল্কের শাড়ির পাশাপাশি নানা ঢঙে, নানান রঙের পাথর, পুঁথি, কুন্তন ও স্প্রিংয়ের তৈরি লেহেঙ্গা পছন্দের শীর্ষে রয়েছে নারীদের।
 
সিটি প্লাজায় শাড়ি কিনতে আসা ফারজানা আক্তার বলেন, বাজেটের সঙ্গে শাড়ির দাম মেলানো কঠিন। তবুও সাধ্যের মধ্যে ভালো শাড়ি কেনার চেষ্টা করছি।

Jessore-eid-bazar

শহরের বড় বাজার এলাকার মনসা বস্ত্র বিতানের বিক্রয় কর্মী বিদ্যুৎ মোদক জানান, সব শ্রেণির ক্রেতাদের পছন্দের শাড়ি আমাদের কাছে আছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শাড়ির দাম বেড়েছে। দেশী শাড়ি পছন্দ করছেন ক্রেতারা।

বিক্রেতারা জানান, ১ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে জর্জেট, প্রিন্ট জর্জেট, সিল্ক জর্জেট, নেট, ইন্ডিয়ান সিল্ক, জামাদানি ও সুতির শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা দরের লেহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ঈদ বাজারে।

জাপানি গ্লোসী সিল্কের কাপজে নেট স্টোন ও পুঁথির কারুকার্যেও বাহারি ডিজাইনে সেজে তৈরি হয়েছে জমকালো লেহেঙ্গাটি। এছাড়াও ছেলেদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে জিন্স, গ্যাবাডিনের প্যান্ট।

এদিকে, শহরের টেইলার্সের দোকানগুলোতে কারিগরদের দম ফেলার ফুসরত নেই। অধিকাংশ টেইলার্সে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্যান্ট, শার্ট, থ্রি-পিচ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কামিজ, পাজামা ইত্যাদি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

বড় বাজার এলাকার টেইলার্স মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, মেয়েরা বেশি কামিজ তৈরির অর্ডার দিয়েছেন। চুরিদার, ডিভাইডার ও প্লাজো পাজামার চাহিদাও রয়েছে। অপরদিকে, জুতা, কসমেটিকস ঈদের নানা অনুসঙ্গ বিক্রি বাড়ছে দিন দিন।  

মিলন রহমান/এআরএ/এমএস