ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বেনাপোলে বিদ্যুৎ সঙ্কটে অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ২৯ জুন ২০১৬

যশোরের স্থলবন্দর নগরী বেনাপোলে বিদ্যুৎ সঙ্কটে নাজেহাল সাধারণ জনগণ। রমজান মাসে ঘন ঘন বিদ্যুতের আনাগোনা পৌরবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এতে একদিকে যেমন রোজাদারদের দুর্ভোগ বাড়ছে তেমনি ঈদ বাজারে বিদ্যুতের অভাব ব্যবসায়ীদের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

সেই সঙ্গে আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার মালামাল খালাসে নানা সমস্যার সৃস্টি হচ্ছে। প্রতিদিন মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যায় আর তারাবির শেষে বা অনেক পরে আসে। এছাড়া দিনে কয়েকবার যাওয়া আসা তো আছেই। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ীদের কোনো উচ্চবাচ্য নেই। সবার মধ্যেই যেন বিষয়টি সয়ে গেছে।

প্রতিদিনই সকাল থেকে ভোর রাত পর্যন্ত লোড শেডিং চলছে বন্দরের সর্বত্র। দেশের প্রধান এই স্থলবন্দরে প্রতিবছর সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও বেনাপোলবাসীর বিদ্যুতের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘদিন যাবৎ। বন্দর এলাকায় কিছুটা বিদ্যুৎ পেলেও বন্দরের আশেপাশের মানুষেরা বিদ্যুৎ পায় না।  বিত্তশালীরা জেনারেটর জ্বালিয়ে কাজ করতে পারলেও স্বল্প আয়ের ব্যবসায়ীরা মোম, হ্যারিকেন জ্বালিয়ে কাজ চালাচ্ছেন। বিদ্যুতের অভাবে মন্থর হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল। থমকে যাচ্ছে সকল কার্যক্রম।

নিয়মিত লোড শেডিংয়ের কবলে পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এখানকার কাস্টমস হাউজ, বন্দর, চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন, আবাসিক এলাকা, থানা, পাঁচ শতাধীক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, অসংখ্য সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দোকানপাটসহ নানা ব্যবসায়ীরা।

আগে শুধুমাত্র সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোড শেডিং হলেও বর্তমানে ভোর থেকে শুরু হচ্ছে লোড শেডিং। এছাড়াও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার ব্যাঘাত ঘটছে। ছাত্র-ছাত্রীরা প্রচণ্ড গরম ও বিদ্যুতের অভাবে পড়াশুনা করতে পারছে না।  

এ স্থলবন্দরে প্রতিদিন লোড-আনলোড হয় প্রায় চার থেকে পাঁচশ ট্রাক পণ্য। কাস্টমস হাউজে প্রতিদিন পণ্য খালাসের জন্য জমা হয় প্রায় দুই থেকে আড়াইশটি বিল অব এন্ট্রি। এসব নিয়ন্ত্রিত হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কম্পিউটার বিভাগ অচল হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন ১০ হাজারেরও বেশি কাগজপত্র ফটোকপি করতে হয় আমদানি রফতানি সংক্রান্ত। ফলে আমদানি-রফতানিও ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। সেই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে অন্যতম এ স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মন্থর হয়ে পড়ছে। এ বন্দরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে শুধু আমদানি-রফতানি কার্যক্রমই ব্যাহত হবে না, এর নেতিবাচক প্রভাব গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরে পড়বে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করেছেন। বাংলাদেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল হলেও বন্দরটি অনুন্নত। বর্তমান সরকার উপজেলার প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুতায়ন করলেও আলোর মুখ দেখছে না এ গ্রামের মানুষ। বিদ্যুতের অভাবে জেনারেটর নির্ভর হয়ে পড়েছে বেনাপোল বন্দর। ১৬০টি জেনারেটর বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর হিসাব অনুয়ায়ী বেনাপোল বন্দর সাব স্টেশনের দৈনন্দিন চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। সরবরাহ হচ্ছে ৪ থেকে ৬ মেগাওয়াট। তাও দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ দিতে পারছে না পল্লী বিদ্যুৎ। অফিস আওয়ারে বেনাপোল বন্দর বিদ্যুৎ পাচ্ছে ৪/৫ ঘণ্টা। বাকি সময় বিদ্যুৎ বিহীন। এ অবস্থা মোকাবেলা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষের দুটি ও কাস্টমসের তিনটি জেনারেটর। বন্দর কর্তৃপক্ষের ২টি জেনারেটরে ৪৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। তবে জেনারেটরের বিদ্যুৎ দিনের বেলা ব্যবহৃত হয় না। জেনারেটর ব্যবহৃত হয় শুধু রাতে। এর ফলে বিদ্যুতের অভাবে দিনের অনেক কাজ ব্যাহত হয়।

বন্দরের একজন কর্মকর্তা জানান, বন্দরের কাজ কম্পিউটার নির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকলে কম্পিউটার বন্ধ থাকে। এতে কাজের জট তৈরি হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের জেনারেটর বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যবহৃত হয়। এর বাইরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও বাজারের বিভিন্ন দোকানপাট সচল রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে ভাড়া করা জেনারেটর। তাও সরবরাহ করা হচ্ছে সন্ধা থেকে রাতে ১০টা পর্যন্ত।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টেরদের অফিসে প্রায় ১৫৫টি জেনারেটর বিদ্যুতের অভাব পুরোণ করছে। স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে জেনারেটর বসিয়ে কাস্টমস হাউজের ডিউটি সংক্রান্ত চালানসহ ব্যাংকের অন্যান্য কাজ করা হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে সকলেরই।

শার্শা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনোয়ারুল ইসলাম জানান, পিডিবির কাছ থেকে ঠিকমত বিদ্যুৎ সাপ্লাই না পাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। বেনাপোলে নিরিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা সরকারের থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। এর পরেও বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বেনাপোলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

এফএ/আরআইপি