ভিডিও EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দিপু হত্যায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এরশাদ, মোবাইল উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি | ময়মনসিংহ | প্রকাশিত: ০৭:৪১ এএম, ০১ জানুয়ারি ২০২৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে (২৮) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ নিয়ে মোট গ্রেফতার হয়েছেন ২০ জন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. এরশাদ (২৭)। তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সাইদুর রহমানের ছেলে। তিনি ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

নিহত দিপু চন্দ্র দাস জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে তিনি ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার সময় নিহত দিপুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি অভিযুক্ত এরশাদ নিজের হেফাজতে নিয়ে নেয়। দিপুকে হত্যায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এরশাদ। তাকে গ্রেফতার করে দিপুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় দিপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন দিপু চন্দ্র দাস পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার ভেতরে ছিলেন। কারখানার সামনে মানুষ জড়ো হতে থাকলে দিপু চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়।

রাত ৯টার দিকে দিপু চন্দ্রকে কারখানা থেকে বের করে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেন। পরে র‌্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করেন। আসামিদের তিনদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন ময়মনসিংহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক।

তারা হলেন- পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ আলমগীর হোসেন (৩৮), কোয়ালিটি ইনচার্জ মিরাজ হোসেন (৪৬), শ্রমিক তারেক হোসেন (১৯), লিমন সরকার (২২), মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯) ও নিঝুম উদ্দিন (২০); ভালুকার বাসিন্দা আজমল হাসান (২৬) আশিকুর রহমান (২৫), কাইয়ুম (২৫) ও শাহিন মিয়া (১৯); ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মো. নাজমুল (২১)।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে উপজেলার ভালুকার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর এলাকা থেকে আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তারা হলেন- ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা নূর আলম (৩৩), জেলার তারাকান্দা থানা এলাকার বাসিন্দা মো. শামীম মিয়া (২৮), সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থানা এলাকার বাসিন্দা তাকবির (২২), ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি থানা এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন (৪২), নোয়াখালির বেগমগঞ্জ থানা এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়া (২২) ও মাদারীপুরের শিবচর থানা এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম খালাসী (২২)। তাদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, দিপু হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্য পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এমআরএম