ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীদের হলফনামায় যত সম্পদ

জেলা প্রতিনিধি | নারায়ণগঞ্জ | প্রকাশিত: ০২:৫৭ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে তাদের হলফনামা দাখিল করেছেন। হলফনামায় বেশিরভাগ মনোনীত প্রার্থী তাদের নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে হলফনামায় তাদের সম্পদের বিবরণও তুলে ধরেন।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ)

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

তিনি তার হলফনামায় উল্লেখ করেন, তার নামে বর্তমানে ৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মোট ২৭টি মামলা রয়েছে। ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪০ টাকা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আয় ১৮ লাখ টাকা। তার নিকট নগদ অর্থ রয়েছে ১৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩৭০ টাকা এবং স্ত্রী নামে ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৭৯৫ টাকা রয়েছে। ব্যাংকে নিজ নামে ২৮ লাখ ৯৪ হাজার ১৯০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৩ লাখ ৫ হাজার ৩৭৫ টাকা রয়েছে।

সেই সঙ্গে নিজের নামে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের এবং স্ত্রীর নামে প্রায় ৭৯ লাখ টাকা মূল্যের আলাদা গাড়ি রয়েছে। রয়েছে ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একে-২২ এর একটি আগ্নেয়াস্ত্র। তার স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯২১ টাকা এবং রয়েছে ৫ শতক জমির উপর একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। নিজের নামে দেনা রয়েছে ৪ কোটি ৯৩ হাজার ৫৭৬ হাজার টাকা। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৫১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৩ টাকা।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার)

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। তার দেশের বাইরে কোনো ব্যবসা নেই। একই সাথে তার কোনো বাড়ি, গাড়ি এবং আগ্নেয়াস্ত্র নেই।

নজরুল ইসলাম আজাদ তার হলফনামায় তুলে ধরেন- তার বিরুদ্ধে মোট ২৬টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তিনি তার পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ব্যবসা। সেই সাথে ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৪ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ রয়েছে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা এবং স্ত্রীর নিকট রয়েছে ১৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৮০ টাকা। নিজের এবং স্ত্রী নামে রয়েছে মোট ৭৬ ভরি স্বর্ণ। তার বিদেশে নেই কোনো সম্পদ।

তার নিজের ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকার এবং স্ত্রীর নামে ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড রয়েছে। বেসিক ব্যাংক থেকে মেসার্স এস অ্যান্ড জে স্টিলের নামের তার ঋণের পরিমাণ ২৭ কোটি ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২৩০ টাকা। নিজের নামে অকৃষির জমির পরিমাণ ৪৬.২৫ শতাংশ এবং স্ত্রীর ৪৮.৫৩ শতাংশ। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৮৭ হাজার ৫০ টাকা এবং স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৯২ লাখ ৬৫ হাজার ২৩৮ টাকা। তার নেই কোনো বাড়ি, গাড়ি এবং আগ্নেয়াস্ত্র।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ)

এই আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সানারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ২৮ টি মামলা রয়েছে।

তিনি তার হলফনামায় উল্লেখ করেন, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৬৮ লাখ ১৭ হাজার ১১১ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থের পরিমাণ ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৪৪ টাকা। তার বাৎসরিক আয় ৩০ লাখ ১২ হাজার ৫৭ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ৫২ হাজার ৬৮০ টাকা।

তার ১ কোটি ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৬০টাকা মূল্যের দুটি মটরযান রয়েছে। রয়েছে ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি আগ্নেয়াস্ত্র। তার মোট ১ হাজার ২৫৯.৬২ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ১৮ লাখ ১৫ হাজার ৭১০ টাকা। এছাড়া ৫ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৮টাকা মূল্যের দুটি ৭ তলা এবং ৩ তলা ভবন রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর)

এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তে উলামা ইসলামের জেলা কমিটির সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে ৮ টি মামলা রয়েছে।

তিনি তার হলফনামায় উল্লেখ করেন- তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭২ লাখ ৯১ হাজার ২৪১ টাকার। পাশাপাশি তার নিকট নগদ অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৬৪ হাজার ২২৬ টাকা এবং বাৎসরিক আয় ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। ব্যাংকে মোট জমাকৃত টাকার পরিমাণ ১৪ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৮ টাকা। তার মোট অকৃষি জমির নাম ৩২.৭৪ শতাংশ যার মূল্য ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা। তার নিকট ৩৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। রয়েছে দুই হাজার বর্গফুটের ২৭ লাখ ১৭ হাজার ২১৫ টাকার আবাসিক ভবন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর)

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। তবে এখান থেকে তার কোনো আয় নেই।

আবুল কালাম তার হলফনামায় উল্লেখ করেন- তার বিরুদ্ধে মোট ৭টি মামলা রয়েছে। বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে বছরে আয় করেন ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৯১৩ টাকা। তার নিকট নগদ অর্থের পরিমাণ ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ১০৬ টাকা এবং স্ত্রীর নিকট নগদ অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১১ টাকা। তার নামে একটি রিভলবার ও একটি বন্দুক রয়েছে। তার বর্তমান অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৮৮ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ আড়াই কোটি টাকা। ২৫ লাখ টাকা দেনা রয়েছে তার। নিজ নামে রয়েছে ২১৫ শতাংশ জমি। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ১৬ লাখ ৪ হাজার ৫১২ টাকা।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এনএইচআর/জেআইএম