ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘আমরা থানা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম’ বৈছাআ নেতার বক্তব্য ভাইরাল

জেলা প্রতিনিধি | হবিগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৩:১৫ পিএম, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে।

শুক্রবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতারের পর শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে তাকে ছাড়াতে গিয়ে এ বক্তব্য দেন। বক্তব্যের ভিডিও তিনি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বলছেন, আন্দোলনের সময় আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। ভিডিও প্রকাশের ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে দেখা যায় শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালামকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলছেন, ‘আপনি বলতে হবে, আমার ভাইকে কেন গ্রেফতার করা হলো। আপনি বলেছেন আন্দোলনকারীতো কি হয়েছে, সেতো ডেভিল। এখানে আমার ১৭ জন ভাই শহীদ হয়েছেন। আপনি কেন বলেছেন, ও ডেভিল ছিল। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে গভর্নমেন্ট ফরম করেছি। আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আমাদের ছেলেদের গ্রেফতার করেছেন। আবার বার্গেনিং করছেন এবং বলছেন আন্দোলনকারী হয়েছে তো কি হয়েছে। দেশের যে কয়টি জায়গায় শক্তিশালী আন্দোলন হয়েছে, এর মধ্যে হবিগঞ্জ একটি। আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম।’

করছেন এবং বলছেন আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে। দেশের যে কয়টি জায়গায় শক্তিশালী আন্দোলন হয়েছে, এর মধ্যে হবিগঞ্জ একটি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া নেতাদের ডেভিল আখ্যা দিয়ে আপনারা গ্রেফতার করছেন।’

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম থাকায় নয়নকে আটক করা হয়েছিল। তবে আন্দোলনে অংশগ্রহণের তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্লেকার্ডসহ ছবিও আছে।’

মাহদী হাসান বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম থাকলেও স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে নয়ন সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। আমার সঙ্গেই তিনি আন্দোলন করেছেন। এমন অসংখ্য ছবি ভিডিও আছে। তার পরও তাকে আটকের ঘটনায় আমরা মর্মাহত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বে আমাদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া আরও ৩ জনকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে আটক করা হয়। এর মধ্যে একজন এখনও জেলে আটক আছেন। এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা কষ্ট লেগেছে। আর তেমন কিছুই নয়।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়ন নামের এক তরুণকে বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করে পুলিশ। অথচ তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এমন ছবি ভিডিও তাৎক্ষণিক পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট পাঠান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। কোনো সাড়া না পেয়ে তারা শুক্রবার দুপুর থেকে তার মুক্তির দাবিতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান শায়েস্তগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে যান। তখন এক পর্যায়ে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ওসিকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন।

পরবর্তীতে তিনি ওই ভিডিও নিজের ফেসবুকে শেয়ার দেন। শেষ পর্যন্ত বিকেল ৩টার দিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে যাচাই বাছাই শেষে এনামুল হক নয়নকে মুক্তি দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলন চলাকালে ৫ আগস্ট বানিয়াচংয়ে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে ৯ জন শহীদ হন। পরে উত্তেজিত জনতা বানিয়াচং থানা জ্বালিয়ে দেয়। এসময় নিহত হন বানিয়াচং থানার এসআই সন্তোষ।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এমএন/এমএস