ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মাদারীপুরে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইটভাটা, নেই ছাড়পত্র

জেলা প্রতিনিধি | মাদারীপুর | প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

মাদারীপুরে জেলার ৫টি উপজেলায় ৯১টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই একটিরও। এদিকে নবায়নের জন্য হাতে গোনা কয়েকটি আবেদন করলেও, দেওয়া হয়নি কোনো নবায়ন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা।

অধিকাংশ ইটভাটা কৃষি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে, যেখানে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। এতে করে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের ৫টি উপজেলায় ৯১টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ১৫টি ইটভাটা বৈধ। বাকি ৭৬টি ইটভাটা অবৈধভাবে পরিচালিত হয় আসছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বেশ কয়েকটি ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ইটভাটাগুলোর কোনো ছাড়পত্র নেই। ছাড়পত্র ছাড়াই এগুলো চলছে।

এই বছর নতুন ইটভাটার লাইসেন্স পাওয়ায় জন্য আবেদন করেছেন সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের পূর্বরাস্তি এলাকার সাখাওয়াত হোসেন। তার মালিকানাধীন মেসার্স জিয়া বিকস্-২ (এমজেটবি) নামে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। এই ইটভাটাটি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দী ইউনিয়নের চৌধুরীরহাট এলাকায় নির্মাণ করার কথা উল্লেখ করেছেন।

এছাড়াও ইটভাটার লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নবায়নের জন্য হাতেগোনা কয়েকটি আবেদন করেছেন। সেগুলো হলো মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের বরহামগঞ্জ যাদুয়ারচর এলাকার জুয়েল খালাসীর মেসার্স পিবিএফ ব্রিকস, শিবচর উপজেলার কাঠালবাড়ী ইউনিয়নের কাঠালবাড়ী এলাকার মো. ইকবাল হোসেন শাহিনের মেসার্স জননী ব্রিকস, মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের আরিফুর রহমান মোল্লার মেসার্স মোল্লা ব্রিকস-২।

মাদারীপুরে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইটভাটা, নেই ছাড়পত্র

বিভিন্ন ইটভাটা ঘুরে জানা যায়, ইটভাটা মালিকরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না। অনেকেই ইটভাটার ভেতরে অবৈধ ভাবে স’মিল বসিয়ে কাঠ কেটে তা পোড়াচ্ছে। ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বিলীন হচ্ছে নানা প্রজাতির গাছ। তাছাড়া কৃষি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। আবার অনেকেই রাতের আধারে মাদারীপুরের নদ-নদীর পাড় থেকে কৃষি জমির মাটি কাটায় ভাঙন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে স্থানীয়রা। সরকারি অনুমোদন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে এসব ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসায় ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, গ্যাস ও ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। তাছাড়া এসব ইটভাটার বেশির ভাগই স্থাপন করা হচ্ছে ফসলি জমি বা এর পাশে। মাদারীপুর সদর উপজেলার পাচখোলা ইউনিয়নই রয়েছে ২০টির বেশি ইটভাটা। একটি ইউনিয়নে এতগুলো ইটভাটা থাকায় সচেতনমহলও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পাচখোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, শুধুমাত্র আমাদের এই পাচখোলা ইউনিয়নের রয়েছে ২৩/২৪টির মতো ইটভাটা। আগে ৩০টি ছিল। এখন বেশ কয়েকটি বন্ধ হয়ে গেছে। শুধুমাত্র একটি ইউনিয়নে এতগুলো ইটভাটা কিভাবে থাকে, তা সত্যিই বোধগম্য নয়। এতে করে এই এলাকার বাসিন্দারা স্বাস্থ্য ঝুঁকি, পরিবেশ ও কৃষি জমি হুমকির মধ্যে পরেছে। এগুলোর ব্যাপারে সঠিক আইন প্রয়োগ করা দরকার।

মাদারীপুর শহরের সনমন্দি এলাকার এমআরবি ইটভাটার সংলগ্ন বাসিন্দা নাম না প্রকাশে বলেন, ইটভাটার পাশেই আমাদের বসতবাড়ি। এখানকার কালো ধোয়ায় আমরা স্বাস্থ্য হুমকির মধ্যে আছি। কোনো নিয়মনীতি না মেনেই ইটভাটাগুলো নির্মাণ করায়, সাধারণ মানুষ নানাভাবে হুমকির মধ্যে আছে। তাই এগুলোর ব্যাপারে জরুরিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।

মাদারীপুরের সচেতন নাগরিক খান মো. শহিদ বলেন, এসব ইটভাটা পরিবেশের পাশাপাশি কৃষি জমির ক্ষতি করছে। এ অবস্থায় জেলার অবৈধ ইটভাটা বন্ধের বিষয়ে প্রশাসনের দ্রæত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

মাদারীপুর সদর উপজেলার সুপার ব্রিকসের মালিক আলহাজ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। পরিবেশ অদিপ্তরের ছাড়পত্রের ব্যাপারেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে মাদারীপুরের কোনো ইটভাটার ছাড়পত্র নেই।

এদিকে ইটভাটা নিয়ে আগামী সপ্তাহে কথা বলবে জানিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান মাদারীপুর ইটভাটা শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পদক মিলন চৌধুরী।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। জেলার সব কিছু সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট ধারণা নেওয়ার সুযোগ হয়নি। ইটভাটা নিয়ে আমি কিছুটা আলোচনা করেছি, আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের যিনি কর্মকর্তা আছেন, তার সঙ্গে আমি বসেছি। সব সময় ইটভাটা আমাদের পরিবেশের সাংঘর্ষিক একটা ইস্যু আছে এবং ইটভাটার মাধ্যমে আমাদের পরিবেশ দূষণ হয় বিধায় এটা নিয়ে আমরা সর্তক। আমি পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানিয়েছি এগুলো নিয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে যারা ইটভাটা চালানোর চেষ্টা করছেন, সেই তথ্যগুলো পেলে আমি ব্যবস্থা নেবো।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এনএইচআর/জেআইএম