ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বুড়ি তিস্তা খননের জেরে সংঘর্ষ

৭০০ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল

জেলা প্রতিনিধি | নীলফামারী | প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

নীলফামারীতে বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খননে জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় ৭০০ কৃষকের নামে মামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে প্রকল্প এলাকায় মশাল মিছিল বের করেন তারা।

এর আগে নীলফামারী জলঢাকা থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলঢাকা কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খনন সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ। ওই কাজে বাধা দিয়ে অবৈধভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখলকারীরা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ও ১ জানুয়ারি ২০২৬ দুই দফায় হামলা চালায়। হামলায় সংরক্ষিত এলাকার আনছার ক্যাম্প এবং ঠিকাদারি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

এদিকে মামলার প্রতিবাদে কৃষকরা বলছেন, তাদের বাপদাদা আমলের তিন ফসলি জমি দখল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডিমলা ও জলঢাকার বিভিন্ন মৌজায় প্রায় ৯৫৭ একর তিন ফসলি জমি এবং ১৬০ একর জমিতে জনবসতি ও সরকারি স্থাপনা রয়েছে। যেখানে কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

১৯৬৮ সালে তৎকালীন সরকারের বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় জলাধার নির্মাণের জন্য পাঁচটি গ্রামের ১ হাজার ২১৭ একর জমি হুকুম দখলে (মৌখিক সম্মতি) অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। পরে সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকার জমি অধিগ্রহণ করেনি। এরপর স্থানীয়রা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। ২০১০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড সেই জমি ইজারায় দিয়েছেন মেসার্স তুষুকা নামক ঠিকাদারি সংস্থাকে।

সম্প্রতি পাউবো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই তিন ফসলি জমিতে উঁচু বাঁধ দিয়ে জলাধার খননের কাজ শুরু করলে কৃষকরা বাধা দিয়েছেন। তাদের দাবি, বৈধ কৃষিজমি অবৈধভাবে দখল করে কাজ করা হচ্ছে। এতে ৭০০ কৃষকের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকাবাসী মশাল মিছিলের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা জমির সীমানা ও মালিকানা যাচাইয়ের পর অনুমোদন সাপেক্ষে জলাধার খননকাজ শুরু হয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।

আমিরুল হক/আরএইচ/এমএস