ফরিদপুরে গাছ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২২
ফরিদপুরের সালথায় বিদ্যালয় চত্বরে থাকা গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় হামলা-পাল্টা হামলায় বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামের মো. জালাল মোল্যার সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নান্নু মাতুব্বরের বিরোধ চলে আসছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাঙ্গারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে থাকা আটটি মেহগনি গাছ বিক্রির করার জন্য কেটে ফেলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্নু মাতুব্বর। গাছ কাটার বিষয়টি প্রতিপক্ষ জালালের সমর্থকরা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কাটা গাছের গুঁড়ি ফেললে ইউপি সদস্য নান্নু মাতুব্বরের শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। পরে গাছগুলো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রেখে আসে পুলিশ।
এদিকে গাছ কাটার বিষয় খবর পেয়ে রোববার সকাল ১০টার দিকে স্কুলের যান সালথা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহা. তাশেম উদ্দিন। তিনি ঘটনাটি তদন্তের জন্য স্থানীয় উভয়পক্ষ নেতাদের নিয়ে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বসেন। এ সময় উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায় জালালের সমর্থক মো. বাদশা মোল্যা ও তার স্ত্রীকে মারধর করে ইউপি সদস্য মো. নান্নু মাতুব্বরের সমর্থকরা। পরে উভয়পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এ সংঘর্ষ। সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষের অন্তত ১০টি বসতঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২২ জন আহত হন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, বিদ্যালয়ের গাছ কাটার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গাছগুলো উদ্ধার করে। গাছগুলো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এনকে বি নয়ন/আরএইচ/এমএস