ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় তীব্র শীত-কুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে বীজতলা

জেলা প্রতিনিধি | গাইবান্ধা | প্রকাশিত: ০৬:২৯ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

গাইবান্ধায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলার চারা মরে যাচ্ছে। হলুদ হয়ে গেছে জীবিত চারা। ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ায় সময়মতো ধানের চারা জমিতে রোপণ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, বোরো মৌসুমে এলাকার কৃষকেরা ধানের বীজতলা তৈরি করেন। হঠাৎ তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলার চারা কিছুটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যাতে বীজতলা নষ্ট না হয় সেজন্য তারা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন বলে দাবি তাদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে। বিপরীতে বীজতলা রয়েছে ৬ হাজার ৮১২ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বীজতলা রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের পূর্ব কোমরনই গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, তীব্র শীত আর ঘন কুশায়ার কারণে বোরো ধানের অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। আবারও বীজতলা তৈরি করতে হবে। এতে কৃষকের খরচ বেড়ে গেল। বৈরি আবহাওয়ায় বীজতলা রক্ষায় কৃষি বিভাগকে কোনো পরামর্শও দিতে দেখা যায়নি।

সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক হাসান আলী জানান, প্রতি বোরো মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন। এবারও তাঁর তেমনই প্রস্তুতি আছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা বীজতলার জমিতে পানি রাখা ও পলিথিন ব্যবহারে পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই পলিথিন ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেছেন।

গাইবান্ধায় তীব্র শীত-কুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে বীজতলা

তিনি বলেন, যেসব ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না, শুধু অর্থ অপচয়। আরও কয়েকদিন কনকনে ঠান্ডা থাকলে অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে। নতুন করে আবারও বীজতলা তৈরি করতে হবে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র শীতের কারণে বীজতলাগুলো সাদা রং ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও বীজের গোড়ায় পচন দেখা দিয়েছে। আবার কোথাও কোথাও নষ্টও হয়েছে। পাশাপাশি বীজতলা পরিচর্যায় চাষিদের ব্যস্ত দেখা গেছে। তারা কেউ গরম পানি দিচ্ছেন। পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন কেউ। আবার ওষুধও ছিটাচ্ছেন অনেকে। বীজতলা রক্ষায় সবধরনের প্রচেষ্টাই করছেন কৃষকেরা।

সুন্দরগঞ্জ বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ফলগাছা গ্রামের কৃষক মো. সবুজ মিয়া বলেন, ‘আবাদ করার মোতো মোর চাইর বিঘা ভুই আছে। ধানের বেসনোত (বীজ) মোর খরচ হইবে কম করি হইলেও ছয় হাজার ট্যাকা। বেসনও খুব সুন্দর হইছিল মোর। কয়দিনের শীতে অবস্থা খারাপ হইছে। সাদা হয়া পচি যাবার নাইকছে। নষ্ট হইলে ভুই গাইরবার বেসোন মুই কোন্টে পাইম সেই টেনশনে আছোম।’

আরেক কৃষক মো. জাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘বীজতলায় সাদা লক্ষণ দেখামাত্র কৃষি অফিসারকে ফোন করেছিলাম। উনি এসে বীজতলা দেখে পরামর্শ দিয়েছেন। সে মোতাবেক গরম পানি ছিটচ্ছি। পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতেছি রাতে। পাশাপাশি ছত্রাকনাশক ওষুধ ছিটাচ্ছি। বীজতলা এখনও তেমন একটা ক্ষতি হয়নি।’

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলগুলোতে কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। বীজতলার যাতে ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। আশা করছি কৃষকরা বীজতলা নিয়ে তেমন একটা ক্ষতির মুখে পড়বে না।

আনোয়ার আল শামীম/এমএন/জেআইএম