মানহীন জ্বালানিতে ছিদ্র হচ্ছে মোটরসাইকেলের ট্যাংক, বিপাকে চালকরা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রাম থেকে শহর সব এলাকায় নিম্নমানের জ্বালানির কারণে মোটরসাইকেলের ফুয়েল ট্যাংক দ্রুত ক্ষয় হওয়ায় চালক ও মালিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ট্যাংকের ভেতরের ধাতব স্তর নরম হয়ে অল্পতেই ছিদ্র হচ্ছে। ফলে তেল পড়ে যাচ্ছে, মূল্যবান জ্বালানি নষ্ট হচ্ছে ও গাড়ির ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পরিবর্তন করতে হচ্ছে মোটরসাইকেলের ট্যাংক। এতে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চালকরা।
সদর উপজেলার মহারাজপুর এলাকায় একটি ব্যাংকে চাকরি করেন কায়েম আলী। তিনি জানান, ব্যাংকে যাতায়াতের জন্য একটি পালসার ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল কিনেছিলাম। কয়েকদিন ধরে দেখছি ট্যাংকে ছিদ্র দিয়ে তেল পড়ছে। প্রতিদিন যন্ত্রণার মধ্যে গাড়ি চালাচ্ছিলাম। পরে ট্যাংকটি পরিবর্তন করতে হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আতিম মাহমুদ বলেন, গত বছর একটি মোটরসাইকেল কিনেছিলাম। কয়েকদিন আগে হঠাৎ দেখি আমার মোটরসাইকেলের ট্যাংক ছিদ্র হয়ে গেছে। চিন্তা করলাম এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে গাড়ি অকেজো হয়ে যাবে। তাই গাড়ির ট্যাংকের সামনে একটি বোতলে তেল রেখে গাড়িটি ব্যবহার করছি।

সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ঠিকাদার মো. ওয়ালিদ আহম্মেদ তিনটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। সম্প্রতি সবগুলো ট্যাংকে মরিচা ধরে ছিদ্র তৈরি হওয়ায় দুইটি মোটরসাইকেল প্রায় অকেজো হয়ে গেছে। তৃতীয়টি পট্টি লাগিয়ে ব্যবহার করছেন।
চালকরা অভিযোগ করেছেন, ফুয়েল স্টেশনগুলোতে সরবরাহ করা তেলের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। অনেকে বলছেন, তেলের মধ্যে অতিরিক্ত সালফার বা পানি মেশানোর কারণে ট্যাংক দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে। এতে শুধু যান্ত্রিক ক্ষতি নয়, তেলের সংস্পর্শে আগুন লাগলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন আলিম বলেন, তেলের মান খারাপ। এ বিষয় নিয়ে তেলের ডিপোতে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এখনও কোনো প্রতিকার মিলছে না। এতে আমাদের কিছু করার নেই। কারণ আমরা তাদের থেকে নিয়ে এসে তেল বিক্রি করি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. শাহজামান হক বলেন, বিষয়টি শুনেছি, খতিয়ে দেখার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মোটরসাইকেলের চালক ও মালিকরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ট্যাংক ক্ষয়, ইঞ্জিন নষ্ট, এমনকি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই জ্বালানির মান নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সোহান মাহমুদ/এমএন/জেআইএম