ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

থমকে আছে তাঁতপল্লি প্রকল্প, বিরান ভূমিতে হচ্ছে তরমুজের চাষ

জেলা প্রতিনিধি | মাদারীপুর | প্রকাশিত: ০১:০১ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বন্ধ হয়ে যায় মাদারীপুরের তাঁতপল্লির প্রকল্পের কাজ। ফলে বিশাল এই বিরান ভূমিতে এখন চাষ করা হচ্ছে তরমুজ।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ও শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় ‘শেখ হাসিনা তাঁতপল্লি’ নামে প্রকল্প নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দুই উপজেলার ১২০ একর জমি নির্ধারণ করা হয়। এই বেশির ভাগ জমিই ছিলো ফসলি জমি। বিশাল এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে মাটি ভরাট করা হয়। এরপর প্রকল্পের পুরো এলাকায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গত দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় বিশাল এলাকাটি বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে প্রকল্পের নাম ‘হাজী শরীয়তউল্লাহ তাঁতপল্লি’ করা হয়। এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরুর অপেক্ষায় আছে বলে জানা গেছে।

এই প্রকল্পে ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ এবং সেই ভবনের প্রত্যেক তাঁতীর জন্য ৬০০ ফুটের কারখানা ও ৮০০ ফুটের মধ্যে আবাসন সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানের শো-রুম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, তাঁতীদের ছেলে মেয়েদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, তাঁতপল্লি প্রকল্পের মধ্যে আনসার সদস্যদের থাকার জন্য একটি টিনশেড অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিলো। যা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ইতিমধ্যেই এর দরজা ও জানালা ভাঙা অবস্থা আছে। তাই সেই বিরান ভূমিতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকার অংশের তরমুজ চাষ করা হয়েছে। শিবচরের কুতুবপুরের অংশে কাশবন ও ফাঁকা পরে আছে।

স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষি জমিতে তাঁতপল্লি নির্মাণ কাজ বন্ধ আছে। তাই এখন এই জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে। তবে এখানে তাঁতপল্লি নির্মাণ হলে এই জেলাসহ পাশেপাশের জেলারও অনেক উন্নয়ন হবে। তাছাড়া এত বড় জমি ফাকা পরে থাকায় তরমুজের চাষ করা হয়েছে। বালুর কারণে অন্য ফসল হবে না। তাই ফাঁকা না রেখে তরমুজ চাষ করছি। প্রকল্পের কাজ শুরু করলে, আর চাষ করা হবে না।

আরেক কৃষক জয়নাল হোসেন বলেন, তাঁতপল্লি নির্মাণের সময় আমাদের ফসলি জমিও নেওয়া হয়েছে। আমরা জমি অধিগ্রহণের টাকাও পেয়েছি। সবার টাকা দেওয়ার পর কাজও শুরু হয়েছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সেই কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এত বড় এলাকাটি এভাবে পরে থাকে লাভ হবে না। দ্রুত তাঁতপল্লি নির্মাণের দাবি জানাই।

স্থানীয় মামুনুর রহমান মামুন বলেন, তাঁতপল্লি নির্মাণের কাজ দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ আছে। তাছাড়া এই এলাকাটি বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। তাই ফেলে রাখার চেয়ে তরমুজের চাষ হয়েছে, এটা ভালো। তবে আমরা দ্রুত তাঁতপল্লি নির্মাণের দাবি জানাই।

স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা তারুণ্য পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সোহাগ হাসান বলেন, তাঁতপল্লি নির্মাণের কাজ দেড় বছর ধরে বন্ধ আছে। তবে এটা খুবই ভালো একটা প্রকল্প ছিলো। এটি বাস্তবায়ন হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অনেকের বেকারত্ব দূর হবে। তাছাড়া আমাদের পুরোনো ঐতিহ্য তাঁতশিল্পেরও উন্নয়ন হবে আধুনিকরণ হবে। তাই এটি দ্রুত নির্মাণের দাবি জানাই।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচএম ইবনে মিজান বলেন, আমি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পেরেছি দীর্ঘদিন ধরে তাঁতপল্লির কাজ বন্ধ আছে। তবে শিগগির দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি। তাছাড়া আগের নাম পরিবর্তন করে হাজী শরিয়তউল্লাহ তাঁতপল্লি করা হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এনএইচআর/জেআইএম